মোঃ শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার:সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলোকাবাদ ইউনিয়নের উত্তর কাপনা গ্রামে "মুজিব পল্লী" এলাকা থেকে ময়না আক্তার (২৮) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।নিহত ময়না আক্তার ওই গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।নিহতের বাবা হযরত আলী জানান, “প্রতিদিনের মতো সকালে খেয়ে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখি ময়না ঘরের ভেতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ আসার আগেই আমরা লাশ নামিয়ে ফেলি।”নিহতের বোন শাহারা আক্তার জানান, ময়না দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বিয়ের আগেই তার ভোলা জেলার সোহাগ নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে পারিবারিকভাবে অন্যত্র বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো, এক পর্যায়ে স্বামী তাকে ছেড়ে দেন। বর্তমানে তার দুটি মেয়ে রয়েছে — বড় মেয়ে লামিয়া (৮) এবং ছোট মেয়ে ছামিয়া (৬)। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন।শাহারা দাবি করেন, “ময়নার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। পরিবারেও তার সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হতো। শনিবার সকালে বাবা ও ছোট বোনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে ঘরে রাখা হয়।” অন্যদিকে প্রতিবেশী মোছা. শাবানা আক্তার জানান “সকালে ময়নার সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তার চাচা ও বোন মিলে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে কয়েক ঘণ্টা পর চাচা ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে লাশ নিচে নামায়।”এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপট পাওয়া গেছে।”এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (UD) মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য এই প্রতিবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান ও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রকাশিত : রবিবার , ২০ জুলাই ২০২৫ , রাত ০৮:৫২।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬ , সকাল ০৭:২১
বিশ্বম্ভরপুরে মুজিব পল্লীতে ময়নার লাশ উদ্ধার: হত্যা, না আত্মহত্যা?
মোঃ শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টার:সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলোকাবাদ ইউনিয়নের উত্তর কাপনা গ্রামে "মুজিব পল্লী" এলাকা থেকে ময়না আক্তার (২৮) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।নিহত ময়না আক্তার ওই গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে। শনিবার (১৯ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।নিহতের বাবা হযরত আলী জানান, “প্রতিদিনের মতো সকালে খেয়ে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। দুপুরে বাড়ি ফিরে দেখি ময়না ঘরের ভেতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ আসার আগেই আমরা লাশ নামিয়ে ফেলি।”নিহতের বোন শাহারা আক্তার জানান, ময়না দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বিয়ের আগেই তার ভোলা জেলার সোহাগ নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে পারিবারিকভাবে অন্যত্র বিয়ে হয়। স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো, এক পর্যায়ে স্বামী তাকে ছেড়ে দেন। বর্তমানে তার দুটি মেয়ে রয়েছে — বড় মেয়ে লামিয়া (৮) এবং ছোট মেয়ে ছামিয়া (৬)। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন।শাহারা দাবি করেন, “ময়নার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। পরিবারেও তার সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হতো। শনিবার সকালে বাবা ও ছোট বোনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে ঘরে রাখা হয়।” অন্যদিকে প্রতিবেশী মোছা. শাবানা আক্তার জানান “সকালে ময়নার সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে তার চাচা ও বোন মিলে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে কয়েক ঘণ্টা পর চাচা ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে লাশ নিচে নামায়।”এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের প্রেক্ষাপট পাওয়া গেছে।”এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (UD) মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য এই প্রতিবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান ও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।