ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার।
ভিকটিম তামিম খাঁন(১৬) ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করে সংসার চালাই। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৩/১/২০২৫ তারিখ বিকালে তামিম বাড়ি থেকে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয় এবং পথিমধ্যে হাড়িগড়া গ্রামের ডুমুর তলা স্ট্যান্ড হতে তার চাচা মোঃ মমিন মোল্যাকে সাথে নিয়ে যাত্রীর উদ্দেশ্যে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমিরুল হোসেন নলদী এলাকায় মেয়ে দেখতে যাবে বলে ৩ শত- টাকা ভাড়ায় চুক্তি করে তামিম ও তার চাচাসহ সিংগিয়া বাজারে নিয়ে যায়।
সেখানে গিয়ে আমিরুল হোসেন দোকান থেকে সিগারেট কিনে নিয়ে ডুমুরতলা স্ট্যান্ডে ফিরে এসে তামিম তার চাচা মমিন মোল্যাকে নামিয়ে দেয় এরপরে তার ভ্যান গাড়ী নিয়ে পূনরায় নলদীর দিকে চলে যায়।
পরবর্তীতে তামিম বাড়ীতে না আসায় রাতে খোঁজ খবর নেয় তার পরিবারের লোকজন।
সারারাত খোঁজ খবর নিয়ে তামিমের কোথাও কোন সন্ধান না পেয়ে তার পরিবার বাড়ীতে চলে যায় পরবর্তীতে তামিমের চাচা মমিন মোল্যা তামিমকে না পাওয়ার বিষয়টি জানলে ওই ঘটনা পরিবারকে জানায় যে, আমিরুল হোসেন নলদী এলাকায় মেয়ে দেখার কথা বলে তামিমকে নিয়ে গেছে গেছে। এসময় উক্ত ঘটনার সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশকে জানাই তামিমের পরিবার।
স্থানীয় লোকজন ও নড়াইল সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমিরুলের বাড়ীতে ০৪ তারিখ রাতে গিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের সম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমিরুল হোসেন জানায় সেসহ অন্যান্য আসামীরা মিলে ভিকটিমের ভ্যান গাড়াটি চুরি করার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে মৃতদেহ লোহাগড়া পৌরসভার মশাখুনি গ্রামের আইয়ুব হোসেন এর বাড়ির উত্তর পার্শ্বে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। এবং ভ্যানটি লোহাগড়ার নাওরা গ্রামের সলেমান শেখ এর ঘরে আছে।
এরপর তামিমের পরিবার ও পুলিশের সহায়তায় ৫ জানুয়ারি রবিবার সকালে মশাঘুনি গ্রাম থেকে তামিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তামিমের পিতা মোঃ রুবেল খাঁন ৫ জানুয়ারি লোহাগড়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করে যাহার মামলা নং-০৪,
ধারা-৩৭৯/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ আইনে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর নড়াইল জেলার পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরের নির্দেশে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ জাকির হোসেনসহ একাধিক টিম আসামি গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে।
এবং ঘটনায় আটককৃত আসামীকে আমিরুল কে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ পূর্বক অন্য আসামিদের লোহাগড়া থানা পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ আমিরুল হোসেন পিং- আমীর হোসেন, গ্রাম নয়াবাড়ি, থানা- জেলা নড়াইল ও ২। মোঃ সরোয়ার মোল্যা পিং- নেহাল উদ্দিন মোল্যা, ৩। মোঃ সলেমান শেখ পিং- ইমান শেখ, ৪। মোঃ ইসমাইল মোল্যা পিং- মোঃ সরোয়ার মোল্যা, সর্ব সাং নাওড়া, থানা- লোহাগড়া,এবং ৫। মোঃ খবির মোল্যা পিং- মৃত তোজামেলে মোল্যা, সাং- নয়াবাড়ী, থানা-নড়াইল, সবাইকে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এদিকে ১নং আসামি মোঃ আমিরুল হোসেন তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।