• ঢাকা
  • বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , সকাল ০৯:৫৫
  • ২৯ মাঘ, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

রক্ষকই ভক্ষক! তালতলীতে মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতার সমুদ্রে ইলিশ শিকার

রিপোর্টার : দৈনিক আলোর সকাল
রক্ষকই ভক্ষক! তালতলীতে মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতার সমুদ্রে ইলিশ শিকার ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

নিজস্ব সংবাদদাতা, তালতলী (বরগুনা)

ইলিশ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরগুনার তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক মো. আবুল কাসেম রিঙ্কু ও তার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল ফকির সমুদ্রে ইলিশ শিকার করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (০৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সমুদ্র থেকে অবৈধভাবে ইলিশ এনে আড়তে তোলার সময় বিপুল পরিমাণ মাছ আটক করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবুল কাসেম রিঙ্কু এবং তার বাবা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ফকিরের দুটি ট্রলার নিষেধাজ্ঞার আগের দিন রাতেই ফকিরহাট ঘাট থেকে সাগরে যায়। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ইলিশ শিকার করেন এবং রবিবার রাতেই মাছ নিয়ে ফিরে আসেন।

এ সময় স্থানীয় জেলে আমির হোসেন ও রুবেলসহ কয়েকজন ঘাটে গিয়ে দেখেন, রিঙ্কুর ট্রলারের জেলেরা ড্রামে ভরে ইলিশ মাছ তার আড়তে নিচ্ছেন। তারা প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং রাতেই মাছ সরিয়ে নেওয়া হয়।

জেলেরা অভিযোগ করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনের যোগসাজশে রিঙ্কু ও তার বাবা নিয়ম ভেঙে মাছ শিকার করে। তারা বলেন, “রক্ষক হয়েই তিনি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন।

রিঙ্কুর আড়তের ম্যানেজার আল আমিন দাবি করেন, “মাছগুলো পুরনো।” তবে তাজা রক্তমাখা মাছ আড়তে আসা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরব থাকেন এবং জানান, “রাতেই মাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিযুক্ত মাঠ সহায়ক আবুল কাসেম রিঙ্কু বলেন, “আমার বাবার ইলিশের আড়ত আছে। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “আমি তখন নদীতে টহলে ছিলাম। সোমবার সকালে শুনেছি, আমার অফিসের মাঠ সহায়ক রিঙ্কুর পরিবারের ট্রলার সাগর থেকে মাছ এনে ঘাটে দিয়েছে। কেউ অনিয়ম করলে তার দায়ভার আমি নেব না। তদন্তে প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. সফিউল আলম বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

 


সারাবাংলা

আরও পড়ুন