ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় জোর করে সাংবাদিক পরিবারের জমি দখলে নিতে জাগো নিউজ-২৪.কম এর সাংবাদিক সাইফুল ইসলামকে মাথা ফাটিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার বিকেল সোয়া ৪ টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাইফুল ইসলাম (৩০) জাগো নিউজ-২৪.কম এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার যোগনীঘাট এলাকার বাসিন্দা।
মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজারসংলগ্ন ইছামতি নদীর তীরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলামের নানা বাড়ি বালুচর ইউনিয়নের চৌদ্দগ্রাম এলাকায়। ওই এলাকায় তাঁর মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে জমিজমার মালিকহন তিনি। ওই জমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের চরবয়রাগাদী গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইউনুস, রাব্বি ও ইসলাম ফারুকরা দলবল নিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলো। সাংবাদিক সাইফুলরা জমিতে গেলেই দলবল নিয়ে মারতে আসতো ইয়াকুবরা ।এ নিয়ে কয়েক বছর আগে আদালতে মামলা করেন সাইফুলরা।পরবর্তীতে আদালত সাইফুলদের জায়গা বুঝিয়ে দেয়।বুধবার দুপুরে সাইফুলরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে যান। সে সময় মোহাম্মদ ইয়াকুব, ইউনুস, রাব্বি ও ইসলাম ফারুকরা দলবল নিয়ে সাইফুলদের উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে সাইফুলকে পেটাতে পেটাতে পাশ্ববর্তী ইছামতী নদীতে ফেলে দেয়।পরে স্থানীয়রা সাইফুলকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিঠুন বর্মন বলেন,সাইফুল নামের এক রোগী মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো.আতাউল করিম সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বলেন, আহত সাংবাদিক সাইফুলের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় তিনটি সেলাই করা হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো.মেনহাজুল আলম। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন,ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর একই জমি চাষ করতে গেলে ইয়াকুব, ইউনুস, রাব্বি ও ইসলাম ফারুকরা হামলা করে সাইফুলদের খালা,খালাতো ভাইসহ ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করে। সে ঘটনায় ওই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।