ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে—তা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই বিশ্লেষণ। সাম্প্রতিক সময়ে এ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি সারাদেশের ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণা করে। ওই তালিকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নেতা আনিস আলহাজ্ব আনিসুল হকের নাম প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত ২০ ডিসেম্বর বিএনপির দলীয় প্যাডে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ-১ আসনে আনিস আলহাজ্ব আনিসুল হককে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়। এ ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ে তাকেই ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে এক নির্বাচনী পথসভায় কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি, আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমার এলাকার জনগণ।” এ বক্তব্যের পর সুনামগঞ্জ-১ আসনে ‘জনগণের মনোনীত প্রার্থী’ হিসেবে কামরুজ্জামান কামরুলের নাম সামনে আসে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
ওই দিন রাতেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে কামরুজ্জামান কামরুলকে সুনামগঞ্জ-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে করে প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি আরও ঘনীভূত হয়।
তবে এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে বা কোনো গণমাধ্যম সূত্রেও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। দলীয় বা গণমাধ্যম সূত্রে স্পষ্ট করে প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি কৌশলগত কারণে একাধিক আসনে একাধিক নাম সামনে রেখেছে। এটি বিকল্প প্রার্থী ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে, যাতে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। তবে এ বিষয়েও দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই সময়ের মধ্যেই প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে রাখা হবে। সেক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা তখনই পরিষ্কার হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে যে আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়। প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত দলীয় বা গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যায়নি।