ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একাধিক ভুয়া (ফেইক) আইডি খুলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব আইডি থেকে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এতে চেয়ারম্যান পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাই–আগস্টের পর থেকে ‘তাহিরপুরের খবর’, ‘খোরশেদ আলম’সহ কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে বিশিষ্ট সমাজসেবক, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব আইডিতে তাকে চাঁদাবাজি, টোল আদায়, বর্ডার বাণিজ্য, নদীর পাড় কাটা, বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, এসব আইডি থেকে চেয়ারম্যান জুনাব আলীকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে হুমকিমূলক বক্তব্যও দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব অপপ্রচারের ফলে চেয়ারম্যানসহ এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী বলেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একটি সিন্ডিকেট চক্র ভুয়া আইডির মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। চাঁদা না পাওয়ায় তারা আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমি এসবের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও জানান, ফেইক আইডিগুলো শনাক্ত হলেই সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করা হবে এবং এসব অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে এসব ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যান পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। থানা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ও সিআইডির আইটি শাখা ভুয়া আইডিগুলো শনাক্তে কাজ করছে।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল হক বলেন, চেয়ারম্যান জুনাব আলী অপপ্রচারের বিষয়ে গতকাল থানায় এসে জিডি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আইডি শনাক্ত করা গেলে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ফেসবুকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টি আমি দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এসব অপপ্রচার সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।