• ঢাকা
  • রবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬ , দুপুর ১২:১৪
  • ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

ধর্মপাশার ইজারাকৃত জলমহাল দখলে জামালগঞ্জের চাঁদাবাজরা, হুমকি ও আতঙ্কে ইজারাদার

রিপোর্টার : দৈনিক আলোর সকাল
ধর্মপাশার ইজারাকৃত জলমহাল দখলে জামালগঞ্জের চাঁদাবাজরা, হুমকি ও আতঙ্কে ইজারাদার ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক বিল ও জলমহাল দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দখলবাজ ও চাঁদাবাজ চক্রের কবজায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে নাইন্দা বিল, মাইন্দা বিল, বৌলাই নদী এবং কালামাটির অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত একটি জলমহালের অন্তর্ভুক্ত বৌলাই নদীর একটি অংশ বর্তমানে অবৈধ দখলে রয়েছে।

জেলা প্রশাসন কর্তৃক উক্ত জলমহালটি ছয় বছরের জন্য উন্নয়ন স্কিমের আওতায় ধর্মপাশা উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরঙ্গ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি.-এর কাছে বৈধভাবে ইজারা প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র, আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক, তার পুত্র এবং সহযোগীরা জোরপূর্বকভাবে জলমহালটির একটি অংশ দখল করে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করে আসছেন।

ইজারাদারদের অভিযোগ, সরকারকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের রাজস্ব পরিশোধ করেও তারা জলমহালে মাছ আহরণ করতে গেলে রাজ্জাক বাহিনী বাধা প্রদান করে এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজারাদার ও তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের প্রাণনাশের হুমকি এবং শারীরিক হামলার শিকার হতে হচ্ছে।

এ ঘটনায় ইজারাদার তাজিমুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চিহ্নিত চাঁদাবাজরা প্রতিনিয়ত জলমহালের অভয়াশ্রম এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি ইজারাদারদের।

তারা আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে জলমহাল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে আসছেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এতে প্রকৃত মৎস্যজীবী ও বৈধ ইজারাদাররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্তদের অবৈধভাবে দখলকৃত স্থান থেকে মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামান্য দূরে অবস্থান নিতেই তাঁর উপস্থিতিতেই রাজ্জাকের ছেলে হিমেল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইজারাদার তাজিমুল ইসলাম ও তার ভাই হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ জানান, অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে জলমহালের অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী বলেন, জলমহালটি মূলত ধর্মপাশা থানার আওতাভুক্ত হলেও এর কিছু অংশ জামালগঞ্জ থানার এলাকায় পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় রুজুকৃত মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসনের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলেও তিনি মত দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদাররা জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের নির্বাচনী ব্যস্ততার সুযোগে অভিযুক্তরা এখনও বেপরোয়াভাবে জলমহালের অভয়াশ্রম থেকে মৎস্যসম্পদ লুট করে যাচ্ছে। অবিলম্বে দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তরঙ্গ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সদস্যরা।


ধর্মপাশা

আরও পড়ুন