ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহত ও তিন জন আহত হওয়ার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি করেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিন জন রয়েছেন। এছাড়া শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চরবাগডাঙ্গা এলাকা থেকে মো. ইউসুফ (৪৫) ও মো. শাকিল (৩৭) নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিস্ফোরণটি ঘটে উপজেলার ফাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কালামের বাড়িতে। স্থানীয়দের দাবি, বোমা তৈরির মূল হোতা কালামের ছোট ভাই দুলাল (৪০)। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম জানান, মামলায় দুলাল নামে কোনো আসামি নেই, তবে এলাকায় তদন্ত সাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি পদে তার নাম রয়েছে। তবে সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে কাজ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের জন্য বাইরে থেকে কারিগর ভাড়া করে তিনি বোমা তৈরি করাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের সময় তাকে বাড়ির আশেপাশেই দেখা গিয়েছিলো এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘটা এই বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার আলামিন (২২) ও শিবগঞ্জ উপজেলার জিহাদ (২০)। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, শনিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহতরা রানিহাটি এলাকার বোমা তৈরির কারিগর ছিলেন।
বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলী। তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুলাল ১০-১২ জন প্যান্ট ও জ্যাকেট পরিহিত যুবকের সঙ্গে কথা বলছেন এবং হাতের ইশারায় তাদের পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। অপর একটি ভিডিওতে একদল ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, মরে গেলেও অসুবিধা নাই... ও সাইজ হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির সাবেক এমপি ও পরাজিত প্রার্থী হারুনুর রশিদ। তিনি এই ঘটনার জন্য সরাসরি জামায়াতকে দায়ি করে বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করতেই আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে এই বোমা তৈরি করছিলো।
অন্যদিকে, বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাবেক এমপি ও জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান এবং জেলা জামায়াত আমির আবু জার গিফারি। লতিফুর রহমান বলেন, যেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করা হয় এবং যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।