• ঢাকা
  • রবিবার , ১২ এপ্রিল ২০২৬ , সকাল ১১:৪৬
  • ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ভাষা শহিদ দিবসে বেরিবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে

রিপোর্টার : দৈনিক আলোর সকাল
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ভাষা শহিদ দিবসে বেরিবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগ বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটে ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যখন সারাদেশ ভাষা শহিদদের স্মরণে নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত, তখনই সরকারি প্রকল্পের আওতায় লাগানো বেরিবাঁধের গাছ কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজের বাড়িতে যাতায়াতের পথ সুগম করতে গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে প্রায় একশত গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে প্রায় ২০টি গাছ কেটে স-মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় নদীভাঙন প্রতিরোধে ওই বেরিবাঁধে মেহগনি গাছ রোপণের উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো এলাকাকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে প্রবেশের জন্য বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি গাছ কাটার উদ্যোগ নেন। গাছ কাটতে বৈদ্যুতিক করাত ব্যবহার করা হয় এবং পরে গুঁড়িগুলো সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি গাছের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কাটা গাছগুলোর আর্থিক মূল্য উল্লেখযোগ্য। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়ার পর কেটে ফেলা গাছ জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও উপজেলা বিএনপির এই সভাপতির বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় আঁখি নুর আক্তার স্বর্ণা নামে এক নারী কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ দিলেও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন। বরং তার বিরুদ্ধে হয়রানির চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বিএনপির ঊর্ধ্বতন মহল কীভাবে বিবেচনা করবে, সে দিকেও নজর রাখছেন স্থানীয়রা।


কিশোরগঞ্জ

আরও পড়ুন