ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের সোমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মধ্যনগর উপজেলার তিন ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার মানুষজন। এই সড়কই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, যা দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী, কৃষক ও পর্যটক চলাচল করেন। কিন্তু সেতু না থাকার কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করে নদী পার হচ্ছেন।
২০১৬ সালের ১০ জানুয়ারি একনেক সভায় উব্দাখালী ও সোমেশ্বরী নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর তমা কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ৮ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেতুর কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি উব্দাখালী নদীর সেতু চালু হলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতু অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এলজিইডি দুই মাস আগে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলেও কাজ বন্ধ থাকায় মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা বাঁশের চাটাই দিয়ে পার হচ্ছেন। আতিক মিয়া নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, প্রায় সাত বছর ধরে সেতুর কাজ চলছে। আমাদের তিনটি ইউনিয়নের মানুষ এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হয়। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবাই কষ্টে আছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
একজন আরেক মোটরসাইকেল চালক জানান, বাঁশের চাটাই দিয়ে পার হওয়া সবসময় ভয়ের। দুটি মোটরসাইকেল একসঙ্গে গেলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
গণমাধ্যমকর্মী আল-আমিন আহমেদ সালমান বলেন, উব্দাখালী সেতু চালু হলেও সোমেশ্বরী নদীর সেতুর কাজ থমকে আছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
এক স্কুল শিক্ষক জানান, সেতু চালু হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং মধ্যনগর-তাহিরপুর অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও সহায়ক হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মিয়া মোহাম্মদ নাছির বলেন, তাহিরপুর ও মধ্যনগরে দুটি সেতুর কাজ শুরু হয়েছিল। একটি সম্পন্ন হয়েছে। আর্থিক জটিলতার কারণে সোমেশ্বরী সেতুর কাজ সময়মতো শেষ হয়নি।
মধ্যনগর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহাব উদ্দিন জানান, তরমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজের প্রাক্কলন সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত সেতুর কাজ শেষ না হলে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল কঠিন হয়ে উঠবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন।