ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে জব্দ করা নৌকা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ওসি তার পোস্টে দাবি করেন, “একজন সাংবাদিক ভাই” তার কাছে তদবির করেন—হেফাজতে নেয়া বড় নৌকাটি বাদ দিয়ে তার পাঠানো একটি ছোট নৌকাকে জব্দ দেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বক্তব্য প্রকাশের পরই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
পোস্টের মন্তব্য ঘরে বিভিন্ন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। মানবজমিন পত্রিকার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক মন্তব্য করেন, “ভাসুরের নাম নিতে এত লজ্জা কেন?”—যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের দাবি উঠে আসে। পোস্টটিতে মোট প্রায় ১২০টি মন্তব্য জমা পড়েছে, যার অধিকাংশেই ওই ‘সাংবাদিক ভাই’-এর পরিচয় প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন গুরুতর অভিযোগ এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম গোপন রাখা—দুই দিক থেকেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এতে যেমন ঘটনার রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে, তেমনি জনমনে বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।
সুশীল সমাজের মতে, অভিযোগটি যদি সত্য হয়, তবে তা আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা—উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
ধোপাজান নদীর এই ঘটনাটি এখন শুধু একটি স্থানীয় ইস্যু নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এখন সবার চোখ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।