ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
নিজস্ব সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় এক নারীসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় পেশাদার মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা পলাতক রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে উপজেলার বড়ছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে আটককৃতদের ধরে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের তাহিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঝিগরওলা গ্রামের সুনীল সরকারের ছেলে মিঠুন সরকার, তার সহোদর জুটন সরকার এবং মিঠুনের স্ত্রী শায়ন্তি দাস।
বিজিবি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং যাওয়ার পথে ২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের ট্যাকেরঘাট বিওপির একটি টহল দল সীমান্তের বড়ছড়া এলাকায় বাংলাদেশ অংশের প্রায় ১০০ গজ অভ্যন্তরে তাদের আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তাদের শিলং পৌঁছে দেওয়ার জন্য বড়ছড়া এলাকার তমাল দাস ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫ হাজার রুপি গ্রহণ করেন। তমাল দাস ভারতের এক নারীর মাধ্যমে তাদের শিলং পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে বিজিবির টহল দেখে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ২৮ বিজিবির ট্যাকেরঘাট বিওপির সুবেদার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক তিনজনকে আসামি করে এবং বড়ছড়া গ্রামের রাজেন্দ্র কুমার দাসের ছেলে তমাল দাসকে পলাতক দেখিয়ে তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি বসবাসের সুযোগ নিয়ে তমাল দাস দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচার চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি একাধিকবার বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তমাল দাস বলেন, তিনি কাউকে পাচার করেননি; বরং কাজের সন্ধানে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সহায়তা করেছেন।
মানব পাচার প্রসঙ্গে তাহিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় বলেন, আটক তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক তমাল দাসকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।