ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জামতলা বাজারে ব্যবসায়ী সামরানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার অবসান ঘটেছে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সামরান অভিযোগ করেছিলেন, খালেক, সোহেল, আকাশ ও মিন্নত আলী তাকে হাত ও মুখ বেঁধে জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন, ৪নং বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুক মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এনাম উদ্দিন তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেম,, বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম সিকদার, বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজাদসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয় এবং ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে সালিশকারীরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, অভিযুক্ত চারজন—খালেক, সোহেল, আকাশ ও মিন্নত আলী—ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ফলে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।
সালিশে উপস্থিত সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। শুনানির সময় জানা গেছে, অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিল—এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে সালিশে উপস্থিত অনেকে মন্তব্য করেছেন, পুরো ঘটনাটি হয়তো পরিকল্পিত বা সাজানো হতে পারে। এ মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা সালিশ ও বিচারের মাধ্যমে অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের শান্তিপূর্ণ সমাধান ভবিষ্যতে এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।