অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিখোঁজ হওয়া শওকত আলীর মরদেহ উদ্ধার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রায় ৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা সীমান্ত এলাকার পদ্মার চর থেকে বিজিবির সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া ঠুঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান। রবিবার সকালে তিনি জানান, সদর উপজেলার চরাঞ্চলে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে শওকত আলী আরও কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। শনিবার সকালে তার পরিবারের সদস্যরা খবর পান, চর বাগডাঙ্গা এলাকার একটি চরে তার মরদেহ পড়ে আছে। পরে পরিবারের সদস্যরা গোপনে মরদেহ দাফনের চেষ্টা করলে পুলিশ খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, নিহতের হাত, পা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
নিহতের ভাই কালু জানান, তার ভাই কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার সকালে তারা জানতে পারেন, ভারতীয় ভূখণ্ডে তার মরদেহ পড়ে রয়েছে। পরে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে মরদেহটি বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর পুলিশ ও বিজিবি মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে কী কারণে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য চোরাচালানকারীদের সঙ্গে শওকত আলী ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে একজোড়া গরু বাংলাদেশে আনার চুক্তিতে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।