ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১২ নম্বর আছিম পাটুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মনিরুজ্জামান। দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তাঁকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
মনিরুজ্জামান ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম আকরাম হোসেন আকন্দ (আক্কু)-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আকরাম হোসেন আকন্দ ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। সততা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও মানুষের পাশে থাকার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
বাবার সেই সামাজিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় মনিরুজ্জামানও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষাজীবনে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কর্মজীবনে একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানে প্রায় নয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি শিশু অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষা সচেতনতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, অভিভাবক সচেতনতা ও সঞ্চয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। এসব উদ্যোগের কয়েকটি কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেছেন এলাকাবাসী। আছিম পাটুলী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নলকূপ ও টয়লেট স্থাপনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব বেকু ও লরি ব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করে আসছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন মনিরুজ্জামান। তিনি ১২ নম্বর আছিম পাটুলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুবদলের সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মনিরুজ্জামানের সমর্থকদের দাবি, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান। পাশাপাশি তরুণদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণের ভোটই প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার চূড়ান্ত মাপকাঠি। প্রার্থীদের যোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করেই ভোটাররা তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
আছিম পাটুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রত্যাশা—যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন দল-মত ও ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।