ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিষয়টি সত্য নয়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বর্তমান আইনেও এমন কোনো বিধান নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে একটি পোস্ট এবং একটি কথিত পত্রিকার কাটিং ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এমন সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।
এছাড়া স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে কার্যকর আইনে এইচএসসি, এসএসসি কিংবা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়।
তবে গত ২২ জুলাই ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। তবে এটি এখনো বিচারাধীন বিষয় এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আইন কার্যকর হয়নি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশের আইন এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অতএব, বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।