পবিত্র ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণ। এই চেতনাকে ধারণ করে গরিব, দুস্থ, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কুরবানির মাংস বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে মৌলভীবাজার জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও মানবিক সংগঠন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহঃ) ইসলামী সোসাইটি (বিআইএস) মৌলভীবাজার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
গত ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উত্তর জগন্নাথপুর এলাকায় সংগঠনের স্থায়ী প্রজেক্ট বোরহানাবাদে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে শতাধিক মানুষের মধ্যে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে সমাজের অসচ্ছল মানুষের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পরিবার আছে, যারা আর্থিক সংকটের কারণে কুরবানির মাংস সংগ্রহ করতে পারে না। তাদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
কর্মসূচির শুরু থেকেই স্বেচ্ছাসেবীরা মাংস প্রস্তুত, প্যাকেটজাত ও বিতরণের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল পরিবেশে সুবিধাভোগীদের হাতে মাংসের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। অনেকেই এই সহযোগিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব নাজমুল হোসাইন, কার্যকরী পরিষদের সদস্য মাহবুব রহমান ইয়ামিম, রেদওয়ান আহমদ ছামীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
বিআইএস এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জেলার বিশিষ্ট সংগঠক এম মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি সামর্থ্যবানদের সঙ্গে অসহায় মানুষের হৃদ্যতার বন্ধন দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে। কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো ত্যাগের মাধ্যমে মানবতার সেবা করা এবং সেই চেতনাকে বাস্তবায়ন করতেই এই উদ্যোগ।
বক্তারা বলেন, বিআইএস সবসময় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দুর্যোগকালীন সহায়তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে মাংস বিতরণ কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাদের মতে, ঈদের প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনেও পৌঁছে যায়।