কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে অভিযানে জড়িত চোরাকারবারিরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী গুইজারখাল এলাকায় অবস্থান নেয়। সীমান্ত পথে মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হয়।
রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে টহলরত বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, দুই ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং চোরাকারবারিদের থামানোর উদ্দেশ্যে বিজিবি সদস্যরা নন-লেথাল অস্ত্র থেকে এক রাউন্ড প্রাণঘাতী নয় এমন গুলি নিক্ষেপ করেন। তবুও তারা দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পালানোর সময় বহন করা দুটি ব্যাগ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়।
পরে বিজিবি সদস্যরা পরিত্যক্ত ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে পলিথিনে মোড়ানো খাকি রঙের প্যাকেট এবং তার ভেতরে নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটে সংরক্ষিত মোট ৩ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়া সীমান্তে পরিচালিত অন্যতম বড় মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্য হিসেবে এ ঘটনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তে মাদক নির্মূলে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।