ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কম্বোডিয়ায় পাঠানোর কথা বলে একাধিক যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, প্রায় এক মাস ঘরে আটকে রাখা এবং দেশে ফেরার সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন মিলন মিয়া নামের এক ব্যক্তি। আর কম্বোডিয়ায় মূল দালাল হিসেবে রফিকুল ইসলাম লিটন নামের এক ব্যক্তির কথা তাঁরা উল্লেখ করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. নাজমুল হোসাইন জানান, তাঁর বাড়ি কাঁচিছুড়া, ডাকঘর বাত্তা, ফুলবাড়িয়া। কম্বোডিয়ায় পাঠানোর কথা বলে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে টাকা নেন মিলন মিয়া এবং কম্বোডিয়ায় রফিকুল ইসলাম লিটনের মাধ্যমে তাঁকে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে প্রায় এক মাস অবস্থান করেও কোনো কাজ পাননি। পরে দেশে ফেরার সময় তাঁর কাছ থেকে আরও ৭২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে জরিমানা ও বিমানের টিকিটের খরচ মেটানোর কথা বলে তাঁকে দেশে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী নাসির জানান, তাঁর বাড়ি গাছিপুরা, ফুলবাড়িয়া। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় এক মাস তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। কোনো কাজ না দেওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে আরও ৭২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে তিনি নিজেই বিমানের টিকিট কেটে দেশে ফিরে আসেন।
ভুক্তভোগী রায়হান জানান, কম্বোডিয়ায় পাঠানোর জন্য তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ওই ব্যক্তির ভাতিজা তাঁকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যান। সেখানে প্রায় এক মাস তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হলেও কোনো কাগজপত্র তৈরি করা হয়নি এবং কোনো কাজ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রায়হানের অভিযোগ, বিষয়টি দেশে পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, তাঁকে ভুয়া ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। দেশে ফেরার সময় তাঁর কাছ থেকে আরও ৫৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ওই টাকা দিয়ে বিমানের টিকিট কেটে তাঁকে দেশে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর জানান, প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মেয়ের জামাই বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠান। তাঁর জানা মতে, মোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও তিনি শুনেছেন বলে জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু হোসেন বলেন, প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী টাকা লেনদেনের বিষয়ে স্থানীয় সেলিম নামের একজনের কাছ থেকে তিনি তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে একজনের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ভুক্তভোগীদের স্বজন কালাম মিয়া জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, অনলাইন কার্যক্রম, ব্যাংক হিসাব খোলা ও পোশাক কেনাসহ বিভিন্ন কাজে তাঁর প্রায় ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর আশায় অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করেছি। শেষ পর্যন্ত তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে চাকরির আশ্বাস দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত কাজ দেওয়া হয়নি। তাঁদের কেউ কেউ কম্বোডিয়ায় গিয়ে আটকা পড়েন এবং পরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন মিয়া ও রফিকুল ইসলাম লিটনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।