ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হয়েছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিবস জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস ও দিবসটির প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ভারপ্রাপ্ত মো. আনিসুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া, সদস্য সচিব আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি আবু বক্কর।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিরা পুরস্কার তুলে দেন। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দেশাত্মবোধক গানের সুরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।