চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ বছরের এক কোমলমতি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্নেহ ও মানবিকতার পরিবর্তে শিশুটির ওপর চালানো হয়েছে বর্বরোচিত নির্যাতন। ইতোমধ্যে ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার সদর মডেল থানাধীন পিটিআই আল হেদায়া হিফজুল কুরআন মডেল মাদরাসার নাজেরা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. নূর ই সাফী (৯) দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সাকির আলীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই শিশুটিকে গালিগালাজ, মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন ওই শিক্ষক।
পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তার আচরণ পরিবর্তন না করে বরং শিশুটির ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
গত ১৩ মে ২০২৬ সকালে মাদরাসার ভেতরে ঘটে যায় ভয়াবহ সেই ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক সাকির আলী একটি শক্ত কাঠের স্কেল দিয়ে শিশুটিকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করছেন।
একপর্যায়ে তিনি শিশুটির গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে মেঝেতে আছড়ে ফেলেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও থামেননি ওই শিক্ষক।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সরেজমিনে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন এর নেতৃত্বাধীন পুলিশ টিম। পরে শিশুটির মামা মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাকির আলীকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সাকির আলী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার দুধাই নন্দীপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন।