চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন ও লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এলাকাবাসীর পক্ষে সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে, ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, চর অনুপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এস আব্দুল বাদীসহ আরও কয়েকজন চেয়ারম্যান এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সদর উপজেলার বারঘরিয়া, মহারাজপুর, বালিয়াডাঙ্গা, রানীহাটি, ঘোড়াপাখিয়া, নয়ালাভাঙ্গা, সুন্দরপুর, শাহজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা, আলাতুলি, নারায়ণপুর, দেবীনগর, ইসলামপুর, চর অনুপনগর ও ছত্রাজিতপুর (আংশিক) ইউনিয়নের মোট ১ লাখ ৭ হাজার ২৫৪ জন গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সেচনির্ভর এসব এলাকায় কৃষিকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, চাঁপাই (হরিপুর) গ্রিড থেকে বরেন্দ্র ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (বহরম) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (মাদ্রাসা মার্কেট) ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে একটি মাত্র ৩৩ কেভি ফিডারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ২৫ মেগাওয়াট হলেও সংশ্লিষ্ট ১৫টি ইউনিয়নের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ১০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও এসব এলাকায় নিয়মিত ফোর্সশেডিং করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকাবাসী জানতে পারেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নয়াগোলা থেকে যাদবপুর-গোয়ালবাড়ি-দামুসবিল পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নতুন ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট লাইন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে নয়াগোলা (সাতনইল) এলাকায় মাত্র সাত স্প্যান লাইনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, ওই অংশে একজন ব্যক্তির আপত্তি ও চলমান মামলার কারণে লাইন নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে ওই স্থানে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে জমির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবুও আপত্তির কারণে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নিরবচ্ছিন্ন ও লোডশেডিংমুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসীর প্রতিনিধিরা।