আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দৈনিক জনকণ্ঠ থেকে অবৈধভাব ছাঁটাইকৃত সাংবাদিক কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছাঁটাইপত্র প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে গণ-ছাঁটাই ও হয়রানির প্রতিবাদে দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানান ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম। জনকণ্ঠের মালিকদের ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ তিনি বলেন, পত্রিকাটির ওপর এখনও ভারতীয় গোয়ন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে তিনি সাংবাদিক নেত্রীবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অনতিবিলম্বে চলমান সমস্যা সমাধানের আহবান জানান। অন্যথায় যেকোনো অনাকাংখিত পরিস্থিতির দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন দিদারুল আলম।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সহসভাপতি রফিক মুহাম্মদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, দৈনিক জনকণ্ঠের প্লানিং অ্যাডভাইজার জয়নাল আবদীন শিশির, ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম প্রমূখ। অবস্থান কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল আশপাশের প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে পূণরায় জনকণ্ঠ ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম-ঘামের ওপর ভর করে গত ৩৪ বছরে জনকণ্ঠের মালিকপক্ষ হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছে উল্লেখ করে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে তারা এদেশে ফ্যাসিবাদি বয়ান তৈরি করেছে। এখনও পতিত আওয়ামী লীগকে পূণর্বাসনের পায়তারা করছে। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে এমন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ষড়যন্ত্রকারীদের কূমন্ত্রণায় পরোচিত হয়ে দৈনিক জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠান লে-অফ করা ছাড়াই ১৪০ জন সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন। একেকটি বিভাগের শতভাগ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছেন।ছাঁটাইকৃতদের ৯০ শতাংশই দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত। অথচ তাদেরকে ৫ আগস্টপরবর্তী দখলবাজ এবং মব সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং ছাঁটাইয়ের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঠুনকো অযুহাত তৈরি করে অবশিষ্ট সাংবাদিকদেরও কারণ দর্শানোর নেটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রতাহার এবং পত্রিকা চালু করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে কর্মসূচি থেকে ঘোষনা দেওয়া হয়।