শেখ রাসেল, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহে ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মেলান্দহ উপজেলার বুরুঙ্গা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী এলাকার মোরর্শেদ আলী (২৬), তাঁর স্ত্রী ইকরামা (২১) এবং তাঁদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন মোটরসাইকেল চালক শওকত হাসান লিখন (৪৫), অটোরিকশাচালক হযরত আলী (৪২) এবং অটোরিকশার যাত্রী শাকিল (১৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা মেলান্দহের শিমুলতলী এলাকা থেকে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে একটি মোটরসাইকেল জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল। পথে পেছন দিক থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে মোটরসাইকেল চালক ছিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।
ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক, অটোরিকশাচালক ও অপর এক যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় সেটি আটক করেন। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি স্থানীয় লোকজন আটক করেছেন। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাতক ট্রাকচালককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।