জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। সমাবেশে দলটির নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক দল জনগণের মতামতকে সম্মান করে, কিন্তু বিএনপি তা না করে অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণে হওয়া উচিত এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে "সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে।" তিনি দাবি করেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে সরকারও জনসমর্থন হারাবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে মুছে ফেলার যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে। তিনি সরকারের প্রতি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা, তবে দলটি সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে পূরণ না হলে তা রাজপথে আদায়ের কর্মসূচি দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামসহ দলের অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট এলাকা প্রদক্ষিণ করে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় ডাকসু ভিপি মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং সুযোগ পেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশ ও গণমিছিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।