বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও হাওর সুরক্ষা বাস্তবায়ন ও পরীক্ষণ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সুরক্ষার স্বার্থে পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান জানান, হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো টাঙ্গুয়ার হাওরে নয়, কেবল ইসিএ ঘোষিত এলাকায় কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান প্রবেশ ও চলাচল করতে পারবে না। তবে মাটিয়ান হাওর, বৌলাই নদী হয়ে টেকেরঘাট পর্যন্ত পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকবে।
১৩ দফা নির্দেশনায় সব হাউসবোটের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, অনুমতি ছাড়া নৌযান পরিচালনা নিষিদ্ধ, হাউসবোটে উচ্চ স্বরে গান, মাইক ও পার্টির আয়োজন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার সংরক্ষণ, বাধ্যতামূলক সেপটিক ট্যাংক ও দুটি ডাস্টবিন স্থাপন, হাওরে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলা, হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুট নির্ধারণ, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সংরক্ষণ, পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি ও জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রদর্শন, প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোট নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো হাউসবোট বা নৌযান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর সরকার ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ জারি করে। নতুন এ নির্দেশনাগুলো ওই সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কার্যকর করা হয়েছে।