ফয়সাল আজম অপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল নির্মূল ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টানা দুই দিন ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে টিম-৭। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, লিফলেট বিতরণ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে দলটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
সোমবার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজারামপুর হাসিনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পুরহিত সাধন সমিতি মোড়, মৌলভীপাড়া, জালি বাগিচাপাড়া, পোস্ট অফিস এলাকা, রাজারামপুর গোরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
অভিযানকালে টিম-৭-এর সদস্যরা এলাকার অলিগলি, বসতবাড়ির আশপাশ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি চিহ্নিত করেন। বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য বদ্ধ পানি অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়-সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানিপুর-বিকাশনি ক্লাব মোড় থেকে অভিযান শুরু হয়ে জান্নাতপাড়া, ফতেপুর ও ঘোষপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হয়। বিশেষ করে এলাকার বিভিন্ন দইয়ের কারখানায় অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তকরণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে সাংবাদিক ফয়সাল আজম অপু, স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রত্যেক নাগরিকের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ড্রাম, ছাদ ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
দুই দিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক ফয়সাল আজম অপু, জাকির হোসেন পিংকু, আরমান হোসেন, পৌরসভার কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, পৌরসভার অন্যান্য কর্মচারী এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্কাউটের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক দিনের অভিযান নয়, বরং নিয়মিত নজরদারি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
টিম-৭-এর এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুমুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।