সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাটে সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির ১ নম্বর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী।
বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
জুনাব আলী বলেন, এর আগে উপজেলার বিভিন্ন নৌঘাটের নৌশ্রমিক ও নৌকার মালিকরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করে সরকারি নির্ধারিত হার অনুযায়ী টাকা আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ রসিদের মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনার পর নৌধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলেও বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘাটে খাস কালেকশন, টোল-ট্যাক্স এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত হারের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে কোনো অর্থ আদায় না করার পাশাপাশি প্রত্যেক আদায়ের বিপরীতে রসিদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জুনাব আলী। তার ভাষ্য, পুলিশ ঘাটে অবস্থান করলে নির্ধারিত হারে টাকা নেওয়া হলেও পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হলে অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। একজন ব্যক্তি যত টাকা দেবেন, তার সমপরিমাণ টাকার রসিদ পাবেন। কিন্তু এখন রসিদ ছাড়াই টাকা নেওয়া হচ্ছে।”
জুনাব আলী আরও বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করার পর পুলিশ ঘাটগুলোতে অভিযান বা পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু সতর্কতা নয়, মামলা করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও দাবি জানান তিনি।
জুনাব আলী বলেন, সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে কোনো ধরনের টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি আদায় রসিদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নৌঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি দ্রুত বন্ধ করা না গেলে সাধারণ নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
এ সময় তিনি সরকারি নির্ধারিত হার বাস্তবায়ন, রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।