স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট :শফিকুল ইসলাম শফিক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী নাজমুল হক।
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাগলী মাজের কান্দা এলাকার কলাগাঁও মৌজায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাজমুল হক মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে। তিনি জানান, ঝিনাইদহের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে তিনি ৫৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এ সংক্রান্ত একটি হলফনামা ২০১৯ সালের ১৭ জুন সুনামগঞ্জের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়।
নাজমুল হকের ভাষ্য মতে, জমিটি আগে থেকেই শামসুল হকের কাছে ৭ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া ছিল। জমি ক্রয়ের পর মানবিক কারণে তিনি ইজারার মেয়াদ পর্যন্ত শামসুল হককে সেখানে থাকার সুযোগ দেন।
তার অভিযোগ, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শামসুল হক জমির দখল বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বরং তিনি নিজেকে ওই জমির মালিক দাবি করে কিছু কাগজপত্র দেখাচ্ছেন, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জমির বিক্রেতা মোজাম্মেল হক বলেন, “আমি জমিটি শুধুমাত্র নাজমুল হকের কাছেই বিক্রি করেছি। এর আগে জমিটি শামসুল হকের কাছে ইজারা দিয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, জমি বিক্রি করেও বিরোধের কারণে তাকে বারবার ঝিনাইদহ থেকে তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকায় আসতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের জানামতে নাজমুল হক মোজাম্মেল হকের কাছ থেকেই জমিটি কিনেছেন এবং শামসুল হক সেখানে ইজারাদার হিসেবে ছিলেন।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শামসুল হকের বিরুদ্ধে এলাকায় আরও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বটতর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায় মানুষ জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
উল্লেখ্য, শামসুল হক শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা চললেও, জমি সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা ও দখল সংক্রান্ত কাগজে জমি লেনদেনের প্রচলন রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজমুল হক প্রশাসনের কাছে জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং আইনগতভাবে জমির দখল ফিরে পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শামসুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।