সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের ১৩ বছর বয়সী শিশু তাহমিদা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
নিখোঁজ তাহমিদা আক্তার উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বাছির ও সাবিনা আক্তার দম্পতির মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তাহমিদা নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় বেড়াজালি বাজারে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার জিডি নম্বর ৪৪৫।
পরবর্তীতে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তাহমিদার মা সাবিনা আক্তার গত ১৬ এপ্রিল সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো মেয়ের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
তাহমিদার মা সাবিনা আক্তার বলেন, “আমার মেয়ে ৩ এপ্রিল বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাকে পাইনি। পরে থানায় জিডি করি এবং পুলিশ সুপারের কাছেও আবেদন দেই। এখন প্রায় দেড় মাস হয়ে গেছে, তবুও আমার মেয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত চলাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদ আহমদ একটি মোবাইল নম্বর থেকে তথ্য পান যে, তাহমিদাকে দেখা গেছে। পরে তিনি ওই নম্বরটি তদন্ত কর্মকর্তাকে দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তবে সুনামগঞ্জের মল্লিকপুর পেট্রোল পাম্প এলাকায় পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মেয়ের কোনো অঘটন ঘটেছে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তাহমিদার মা। তিনি দেশবাসী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কাছে তার মেয়েকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
যোগাযোগের জন্য পরিবারের মোবাইল নম্বর: ০১৩১১-৭০০০৪২।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রতন শেখ পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“সম্প্রতি এ বয়সী অনেক মেয়েই বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা অনেককেই উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছি। তাহমিদা আক্তারের বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে। সন্ধান পাওয়া গেলে দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন ও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।