তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় রাসায়নিক সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজনের পূর্বে সার ব্যবসার অভিজ্ঞতা, নিজস্ব দোকানঘর কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অবকাঠামো ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলার নিয়োগে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নে নাছির মিয়া সার ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব পদে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া যাদুকাটা নদীর ১ ও ২ নম্বর বালুমহালের ইজারার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা ও শর্ত যাচাই করা হয়েছে, তা জানতে চান স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, বালিজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে তাঁর ছোট ভাই এনায়েত হোসেনকে সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনায়েত হোসেন বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও আত্মীয়তার কারণে তাঁকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ও বাসিন্দা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং নিয়োগের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া নানু মিয়ার সার ডিলারশিপ পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সার ব্যবসা ও দোকানঘর থাকার বিষয়ে প্রশ্ন থাকলেও তিনি ডিলারশিপ পেয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর আবেদন, ব্যবসায়িক যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে রেহেনা বেগম নামে একজন সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বলেও জানা গেছে। তাঁর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও ডিলার নিয়োগের যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বাদাঘাট ইউনিয়নে পূর্বে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একজন ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
বঞ্চিত হওয়ার দাবি করা কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনও হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, বিএনপির একাংশের দাবি, সরকারি নিয়মনীতি ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সার ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই কোনো আবেদনকারী অযোগ্য প্রমাণিত হন না; বরং প্রত্যেকের যোগ্যতা ও নিয়োগের নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের দাবি, ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, দোকান ও গুদামের তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সার ডিলার নিয়োগ কমিটি এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।