তাহিরপুর উপজেলার ইজারাবিহীন পাটলাই, মাহারাম ও শান্তিপুর নদী থেকে পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিথ্যা অপপ্রচারেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বুধবার দুপুরে উপজেলার আনন্দ বাজারে গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ বড়দল ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাহারাম, শান্তিপুর এবং পুরানখালাস গ্রামের পেছনে লেদারবন্দ গ্রামের সামনের পাটলাই নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি এবং ভাটি অঞ্চলের মাটিয়ান হাওরসহ অন্তত ২৩টি হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে প্রথমে ডাম্পের বাজার, কৃষ্ণতলা, ভোরাঘাট, শ্রীপুর, কামারকান্দি, কাউকান্দি, লেদারবন্দ ও পুরানখালাস, বিন্দারবন সহ বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে সুযোগ বুঝে বড় বাল্কহেডে বালু লোড করে অন্যত্র পাঠানো হয়ে থাকে। রাতের আঁধারে নিয়মিত এভাবে বালু পরিবহন হলেও সংশ্লিষ্ট ডাম্পিং ও লোডিং পয়েন্টে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না।
সাবেক মেম্বার উম্মর আলীর সভাপতিত্বর বক্তব্য মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজ উদ্দিন, বিল্লাল মিয়া, মোশারফ হোসেন, মহিলা ওয়ার্ড সদস্য) রাজনা আক্তার সীমা, এসআই শফিক, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ইয়াকুব হোসেন মেম্বার বলেন, লেদারবন্দ ও বিন্দারবন্দ গ্রামের সামনে প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে প্রভাবশালী একটি মহল বালু উত্তোলন করছে। আমরা প্রতিবাদ করলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। দুই দিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এখানে একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই বালুখেকো চক্ররা ফেসবুকের ফেইক আইডি ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবু মিয়া বলেন, পাটলাই নদী থেকে ড্রেজার পুড়ানোর ফলে একটি বালু লুটকারী চক্র আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অবিলম্বে লেদারবন্দ ও পুরানখালাস সামনের নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, দুই দিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানে রওনা দিলে অনেক সময় খবর পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা নৌকা ও যন্ত্রপাতি রেখে পালিয়ে যায়। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।