স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সরকারী সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধ আংগুল দেখিয়ে পুঠিয়া উপজেলার দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র- ছাত্রী থেকে অবৈধ ভাবে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফি গ্রহন করলেন দুই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।
পালোপাড়া ও কাঁঠালবাড়িয়া দুই স্কুল সুত্রে জানা যায়, প্রাক প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ টাকা করে ও তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ৬০ টাকা হারে পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেন স্কুলের শিক্ষকরা।
গত তিন দিন উপজেলা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, পুঠিয়া উপজেলায় মোট ৯০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে কাঁঠাল বাড়িয়া ও পালো পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা হারে প্রধান শিক্ষকের আদেশ ক্রমে টাকা উত্তোলন করে সহকারী শিক্ষকরা।
দুই স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার আগেই আমাদের থেকে পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেন আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ।
ফি দিতে দেরি হলে আমাদের অনেক রকমের কথা বলেন প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক- শিক্ষিকরা। আমরা সবাই পরীক্ষার ফি দিয়েই পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করেছি।
দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকের কথায় পালোপাড়া ও কাঁঠাল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে ফি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আমার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি এর টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পালোপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, হ্যাঁ আমরা পরীক্ষার ফি গ্রহণ করেছি। আমাদের ফান্ডে টাকা সংকট থাকার কারণে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিক্ষার্থীদের থেকে ৪০ থেকে ৬০ টাকা হারে সকল শিক্ষদের মাধ্যমেই টাকা উঠানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশনাকে অম্যান করে টাকা উত্তোলন করা সঠিক এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, কাজটি করা সঠিক হয়নি। তবে স্কুলে টাকা লাগবে তাই টাকা আদায় করেছি বলে তিনি জানান।
অপরদিকে কাঁঠাল বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহাবুবা খাতুন জানান, কত কিছু ঘটে যাচ্ছে তার খবর হয় না। আর আমরা সামান্য পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা নিয়েছে এজন্য এত কিছু । আপনি সাক্ষাতে আসেন কথা বলবো।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে পুঠিয়া উপজেলার দুইটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের থেকে পরিক্ষার ফি গ্রহণ করেছে। আমরা এই বিষয়ে তদন্তে করে দুই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুঠিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের থেকে পরীক্ষার ফি গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।