রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভাজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বিস্তার লাভ করেছে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট, যার ফলে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ সমাজ এবং দেশের বাইরে পাচার নহচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে অনেক তরুণ অনলাইন ক্যাসিনো, বাজি ও বিভিন্ন অবৈধ জুয়া অ্যাপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে, অন্যদিকে সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক কলহ, চুরি-ছিনতাই এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মূল হোতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন এজেন্ট ও মাঠপর্যায়ের কর্মী আটক হলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ—মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু অনলাইন জুয়াই নয়, মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, অনলাইন জুয়া ও মাদক একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বাগমারার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, মূল হোতাদের শনাক্তকরণ এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বাগমারার তরুণ সমাজ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতাদেরও একযোগে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি এবং অবৈধ অনলাইন লেনদেন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—বাগমারাকে অনলাইন জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজে বেড়ে উঠতে পারে।