শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবন ও অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বলায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে স্ত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া বৃষ্টি ও রবিউল ছৈয়ালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াবিবাদ হতো।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন লামিয়া। অন্যথায় তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। পরে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সামাজিকভাবে বিরোধের মীমাংসা করা হয়। মীমাংসার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা চলে গেলে লামিয়ার সঙ্গে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয় রবিউলের।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে লামিয়াকে টেনেহিঁচড়ে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান রবিউল।
পরে নিহতের ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর বোনকে খুঁজতে গিয়ে পাশের বাড়ির ডোবায় তাঁকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে অভিযুক্ত রবিউলের মা জানান, তাঁর ছেলে কী করেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার পর ছেলে ও পুত্রবধূ তাঁদের সন্তানকে আনতে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলে এসে জানান, তিনি রবিউলকে দৌড়ে চলে যেতে দেখেছেন, কিন্তু লামিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে পাশের বাড়ির ডোবায় লামিয়াকে পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই তাঁর মেয়েকে মারধর করা হতো। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে মেয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদককে কেন্দ্র করে পারিবারিক সহিংসতা ও প্রাণহানির এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।