ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতির বিরুদ্ধে রিট, আদেশ বাস্তবায়নে আবেদন রতন মিয়ার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বালুমহালের সাবেক ইজারাদার রতন মিয়ার দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আদেশটি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের শুনানি শেষে বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেন। একই সঙ্গে মো. নাছির মিয়াকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
রিটকারী রতন মিয়া তাহিরপুর উপজেলার ননাই গ্রামের ‘মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক। তাঁর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি আগে বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান না করে অন্য একজনকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
রতন মিয়া বলেন, তিনি নিয়ম মেনে দরপত্রে অংশ নিয়ে বালুমহাল ইজারা পেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, যথাযথ দরপত্রপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এককভাবে অন্য একজনকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল জানান, বালুমহালসংক্রান্ত আগের একটি আদেশ স্থগিত হয়েছে। পরবর্তী করণীয় জানতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আদালতের নতুন আদেশের অনুলিপি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ‘মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশার’-এর মালিক মো. নাছির মিয়াকে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে বিগত তিন বছরের গড় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ শতাংশ কর ধার্য করে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে নাছির মিয়াকে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর বালুমহাল দুটির অনুমতি ও বালু উত্তোলনসংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা আদালতের আদেশের অনুলিপি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, ইজারা ও অনুমতিপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারি রাজস্বের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।