পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও এমপি মোঃ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও দলীয় প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম পূর্বে বেস্ট লেদার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার মাধ্যমে প্রায় ২৬ লাখ ৯৮ হাজার ৯০১ মার্কিন ডলারের চামড়া রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়নি।
তবে এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে Best Leather Company। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোঃ শরীফুল আলম কখনোই এমডি ছিলেন না; তিনি ২০১৫ সালের ৫ মে পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন এবং ২০২১ সালের ২০ মে সব শেয়ার বিক্রি করে পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
এছাড়া কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, Islami Bank Bangladesh PLC-এর মতিঝিল শাখায় তাদের কোনো এলসি (Letter of Credit) ছিল না। বরং ইসলামপুর শাখার মাধ্যমে ১৬টি এলসির বিপরীতে মোট ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪০.২০ ডলারের রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
প্রমাণ হিসেবে ইসলামি ব্যাংকের ইসলামপুর শাখার একটি প্রত্যয়নপত্র (তারিখ: ০৯.০৬.২০২৬, স্মারক: IBBL/ISP/FEX/2026/687) উল্লেখ করে বলা হয়, বেস্ট লেদারের কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ বা বকেয়া বিল নেই।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীফুল আলমের সমর্থকরা অভিযোগটিকে “রাজনৈতিক অপপ্রচার” বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় প্রায় ৮২টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবরণ ও রিমান্ডে ছিলেন। সমর্থকদের প্রশ্ন—এত মামলা থাকা সত্ত্বেও অতীতে অর্থ পাচারের কোনো মামলা না হওয়ায় এখনকার অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য।
তারা আরও দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় শরীফুল আলম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
Shariful Alam-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যা নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যদি না নিরপেক্ষ তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।