রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিক সমাজ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের সংকট, দুর্যোগ, দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচার কিংবা জনদুর্ভোগ— সবকিছুই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন সাংবাদিকরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, সেই সাংবাদিকদের কল্যাণে বাস্তব অর্থে খুব কম মানুষই এগিয়ে এসেছেন।
আজ অনেক সাংবাদিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ আর্থিক সংকটে, কেউ চিকিৎসার অভাবে, আবার কেউ পেশাগত নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের ন্যায্য সম্মানী, চাকরির নিশ্চয়তা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা নেই। অনেক প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের শ্রমকে ব্যবহার করলেও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তরিক নয়।
বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের অবস্থা আরও করুণ। তারা দিনের পর দিন দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হন। একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদেরকে নানা ধরনের হুমকি, মামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। কিন্তু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ খুব কমই দেখা যায়।
সাংবাদিক সমাজের ঐক্যের অভাবও একটি বড় সমস্যা। ব্যক্তি স্বার্থ ও বিভাজনের কারণে আজ সাংবাদিকদের শক্ত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। অথচ সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং কার্যকর উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি) বিশ্বাস করে— সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত না হলে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার, গণমাধ্যম মালিক এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, সাংবাদিকদের শুধু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো মানে সত্য ও ন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করি।
মোঃ আঃ মান্নান
উপ-মহাসচিব
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)