সাতক্ষীরায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে খান নাজমুল হুসাইন (৩৫) নামে এক সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, মারধর ও রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন দৈনিক খুলনাঞ্চল ও সরেজমিন বার্তা পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তার অভিযোগ, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকায় বসির সাহেবের পাম্পের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন। এ সময় তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে ২ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্যরা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি হাতে থাকা নাইলনের রশি তার গলায় পেঁচিয়ে টান দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। হামলায় তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত ও রক্তজমাট ফোলা জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলার সময় ৩ নম্বর আসামি তার প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে ৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। চিকিৎসা নেওয়ার কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এজাহারে সাক্ষী হিসেবে মো. ইব্রাহিম খলিল ও মো. সাগর হোসেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনার বিষয়ে জানেন ও দেখেছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সাংবাদিক খান নাজমুল হুসাইন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।