সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মনসুর মিয়া (৪৫) নামে এক বারকি শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘সুমন’ নামে পরিচিত ছিলেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব সোনাপুর গ্রামে নিজ ভাড়া বাসার ঘরের মেঝেতে নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনসুর মিয়ার বাড়ি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে। জীবিকার তাগিদে প্রায় সাত-আট বছর আগে তিনি পূর্ব সোনাপুর গ্রামে এসে বারকি শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রথমদিকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করলেও প্রায় তিন বছর আগে তার স্ত্রী বিদেশে চলে যান। এরপর থেকে তিনি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে একাই ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. রাফিকা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন মনসুর। একা থাকায় তার দেখাশোনারও কেউ ছিল না। সোমবার সকালে স্থানীয়রা তাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “বারকি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সার্কেল এসপি উপস্থিত রয়েছেন। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।