সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রক্তি নদীতে হাউজবোডের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর আমান উল্লাহ আমিন (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ হাউজবোডে অবস্থানরত এক নারীসহ ৯ জনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর-পাতারী এলাকার রক্তি নদী থেকে আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমিন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। তিনি একটি মালবাহী নৌকার স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোররাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে আনোয়ারপুর-পাতারী এলাকায় হাউজবোড ও মালামাল পরিবহনকারী নৌকা রাখাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে NAUTILUS (KTV) নামের একটি হাউজবোডের ১০ থেকে ১৫ জন লোক মালবাহী নৌকায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলার সময় নৌকায় থাকা পাঁচজন স্টাফ ও তিনজন যাত্রী মারধরের শিকার হন। এ সময় নৌকার মালিক কামাল মিয়াকে হাউজবোডের লোকজন আটক করে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রাণভয়ে নৌকায় থাকা অন্যরা রক্তি নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠে যান। পরে স্থানীয় লোকজন এসে কামাল মিয়াকে উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে সবার খোঁজ পাওয়া গেলেও আমিন নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে তার মরদেহ নদীতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পিতা কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। পরে নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তারা বলেছে তাদের হাত অনেক লম্বা। আমি আমার ছেলের হত্যার ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর তিনি তাহিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই ঘটনায় হাউজবোডের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি আপস-মীমাংসার উদ্যোগ চলাকালে আমিনের মরদেহ উদ্ধার হয়।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ হাউজবোডে অবস্থানরত এক নারীসহ ৯ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
তাহিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সুশংকর পাল জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।