জবি প্রতিনিধি, গোলাম মাওলা হাবীব সাদামাটা ও শোকসন্তপ্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকতা ও কর্মচারীরা।সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর পৌনে ১০টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়ে র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মোড় ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এরপর বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে এক আলাচনা সভার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।দিবস উদযাপনে আসা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন মুন্না বলেন, প্রতিবছর নাচগানসহ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। তবে এবছর সবাই শোকে নিমজ্জিত। তাই সাদামাটাভাবে হলেও আমরা সন্তুষ্ট। সর্বোপরি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ কামনা করি।ব্যবস্থাপনা বিভাগের অপর শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন বাপ্পি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের ঐক্যের প্রতীক। তবে জুবায়েদ ভাইয়ের মৃত্যুতে সবাই ভীষণ মর্মাহত। তাই আনন্দের চেয়ে শোকই আজ বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই শোকই আমাদের আরও সচেতন ও দায়িত্ববান জবিয়ান হিসেবে গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস করি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়ে আসছে। তবে এ বছর কিছু সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে পুরো পরিবেশটি শোকাবহ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই আমরা এবার দিবসটি সাদামাটাভাবে আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।২০০৫ সালে ২০ অক্টোবর জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। কালীপূজা ও শ্যামাপূজার কারণে এবছর ২ দিন পিছিয়ে ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু ১৯ অক্টোবর জবি ছাত্রদল নেতা ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়েদ টিউশন বাসায় হত্যার শিকার হন। এর প্রেক্ষিতে ২০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করে প্রশাসন। পরে ২৭ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে কনসার্টসহ বিভিন্ন জমকালো আয়োজন অনুষ্ঠানসূচি থেকে বাদ দেয়া হয়। এবাারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল “ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান, স্বপ্ন জয়ে অটল প্রাণ”।
প্রকাশিত : সোমবার , ২৭ অক্টোবর ২০২৫ , সন্ধ্যা ০৬:২৯।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬ , দুপুর ১২:১৩
সাদামাটা আয়োজনে জবি দিবস উদযাপিত
জবি প্রতিনিধি, গোলাম মাওলা হাবীব সাদামাটা ও শোকসন্তপ্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকতা ও কর্মচারীরা।সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এরপর পৌনে ১০টায় উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়ে র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মোড় ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। এরপর বিজ্ঞান অনুষদের মাঠে এক আলাচনা সভার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।দিবস উদযাপনে আসা আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন মুন্না বলেন, প্রতিবছর নাচগানসহ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। তবে এবছর সবাই শোকে নিমজ্জিত। তাই সাদামাটাভাবে হলেও আমরা সন্তুষ্ট। সর্বোপরি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ কামনা করি।ব্যবস্থাপনা বিভাগের অপর শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন বাপ্পি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের ঐক্যের প্রতীক। তবে জুবায়েদ ভাইয়ের মৃত্যুতে সবাই ভীষণ মর্মাহত। তাই আনন্দের চেয়ে শোকই আজ বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই শোকই আমাদের আরও সচেতন ও দায়িত্ববান জবিয়ান হিসেবে গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস করি।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়ে আসছে। তবে এ বছর কিছু সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে পুরো পরিবেশটি শোকাবহ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই আমরা এবার দিবসটি সাদামাটাভাবে আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।২০০৫ সালে ২০ অক্টোবর জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। কালীপূজা ও শ্যামাপূজার কারণে এবছর ২ দিন পিছিয়ে ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু ১৯ অক্টোবর জবি ছাত্রদল নেতা ও পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়েদ টিউশন বাসায় হত্যার শিকার হন। এর প্রেক্ষিতে ২০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করে প্রশাসন। পরে ২৭ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে কনসার্টসহ বিভিন্ন জমকালো আয়োজন অনুষ্ঠানসূচি থেকে বাদ দেয়া হয়। এবাারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল “ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান, স্বপ্ন জয়ে অটল প্রাণ”।