স্টাফ রিপোর্টার, রংপুরঅ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে রংপুর জেলার নানা গ্রামের গোয়ালঘরগুলো এখন শূন্য। একদিকে গবাদিপশুর মৃত্যু, অন্যদিকে ছোট খামারিদের নিঃস্ব হয়ে পড়া। জেলার পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া ও তারাগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।পীরগাছা উপজেলার আনন্দী ধনীরাম গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম (৬৫) তাঁদেরই একজন। কিছুদিন আগেও বাড়িতে দুটি গরু ছিল, সেগুলোর দুধেই সংসার চলত। গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রাক্সে চার মাসের গাভিন শাহিওয়াল জাতের গরুটি মারা যায়। আরেকটি গরু অসুস্থ হলে সেটিও জবাই করতে হয়। এরপর আর গোয়ালঘর রাখেননি, ভেঙে ফেলেছেন।২৮ অক্টোবর তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, “গরু নাই, গোয়াল রাখি কী কইরা? বাঁশ-টিন বিক্রি কইরা যদি পাঁচ কেজি চাল আনতে পারি, পাঁচ দিন খাইয়া বাঁচুম। এরপর খোরাকি কই?”সংক্রমিত গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার পর তাঁর পরিবারসহ এলাকার ২০–২৫ জন আক্রান্ত হন। সিরাজুলের ভাবি কমেলা বেগম (৭০) অসুস্থ হয়ে মারা যান। চিকিৎসার পেছনে অন্তত ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান সিরাজুল।স্থানীয়দের ভাষায়, অ্যানথ্রাক্স যেন একের পর এক পরিবারকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। আনন্দী ধনীরাম গ্রামে রইস উদ্দিন, রমজান আলী, রফিকুল ইসলামসহ অন্তত ছয়জনের সাতটি গরু এবং আরও তিনজনের আটটি ছাগল মারা গেছে। দিনমজুর রমজান আলী বলেন,“দিনমজুরি কইরা খাই। তড়কা রোগের ভয়েতে চারটা গরু বিক্রি দিছি। একটা গরু মরছেই।”জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরের চার উপজেলার ৩১ খামারির ১১৩টি সন্দেহভাজন গবাদিপশুর মধ্যে ৫০টিতে অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ১৯টি মারা গেছে, ৩০টি জবাই করা হয়েছে এবং একটি চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত আট উপজেলায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম চলছে।পীরগাছার কুটিপাড়া গ্রামের খামারি আবু তাহের জানান, তাঁর ৪টি গরু মারা গেছে।“নিঃস্ব হইছি। সরকারের কেউ খোঁজ নিল না। আমার আশপাশে সাতটা গরু আর চারটা ছাগল মরছে।”জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ জানান, অ্যানথ্রাক্সে গবাদিপশুর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের নিয়ম নেই। তবে ছোট খামারিদের সাপোর্ট দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে রংপুরের গ্রামগুলোতে এখন শঙ্কাই নিত্যসঙ্গী। খামারিরা আশা করছেন, দ্রুত সরকারি নজরদারি ও সহায়তা না এলে তাঁদের স্বপ্ন ও জীবিকা দুটোই হারিয়ে যাবে।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৫ , দুপুর ০২:১২।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬ , সকাল ০৭:৪২
রংপুরে অ্যানথ্রাক্স দুঃসহ বাস্তবতা: গরু নেই, চলবে কীভাবে সংসার?
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুরঅ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে রংপুর জেলার নানা গ্রামের গোয়ালঘরগুলো এখন শূন্য। একদিকে গবাদিপশুর মৃত্যু, অন্যদিকে ছোট খামারিদের নিঃস্ব হয়ে পড়া। জেলার পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া ও তারাগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।পীরগাছা উপজেলার আনন্দী ধনীরাম গ্রামের দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম (৬৫) তাঁদেরই একজন। কিছুদিন আগেও বাড়িতে দুটি গরু ছিল, সেগুলোর দুধেই সংসার চলত। গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রাক্সে চার মাসের গাভিন শাহিওয়াল জাতের গরুটি মারা যায়। আরেকটি গরু অসুস্থ হলে সেটিও জবাই করতে হয়। এরপর আর গোয়ালঘর রাখেননি, ভেঙে ফেলেছেন।২৮ অক্টোবর তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, “গরু নাই, গোয়াল রাখি কী কইরা? বাঁশ-টিন বিক্রি কইরা যদি পাঁচ কেজি চাল আনতে পারি, পাঁচ দিন খাইয়া বাঁচুম। এরপর খোরাকি কই?”সংক্রমিত গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার পর তাঁর পরিবারসহ এলাকার ২০–২৫ জন আক্রান্ত হন। সিরাজুলের ভাবি কমেলা বেগম (৭০) অসুস্থ হয়ে মারা যান। চিকিৎসার পেছনে অন্তত ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান সিরাজুল।স্থানীয়দের ভাষায়, অ্যানথ্রাক্স যেন একের পর এক পরিবারকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। আনন্দী ধনীরাম গ্রামে রইস উদ্দিন, রমজান আলী, রফিকুল ইসলামসহ অন্তত ছয়জনের সাতটি গরু এবং আরও তিনজনের আটটি ছাগল মারা গেছে। দিনমজুর রমজান আলী বলেন,“দিনমজুরি কইরা খাই। তড়কা রোগের ভয়েতে চারটা গরু বিক্রি দিছি। একটা গরু মরছেই।”জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরের চার উপজেলার ৩১ খামারির ১১৩টি সন্দেহভাজন গবাদিপশুর মধ্যে ৫০টিতে অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ১৯টি মারা গেছে, ৩০টি জবাই করা হয়েছে এবং একটি চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত আট উপজেলায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭০০ গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম চলছে।পীরগাছার কুটিপাড়া গ্রামের খামারি আবু তাহের জানান, তাঁর ৪টি গরু মারা গেছে।“নিঃস্ব হইছি। সরকারের কেউ খোঁজ নিল না। আমার আশপাশে সাতটা গরু আর চারটা ছাগল মরছে।”জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ জানান, অ্যানথ্রাক্সে গবাদিপশুর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের নিয়ম নেই। তবে ছোট খামারিদের সাপোর্ট দিতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে রংপুরের গ্রামগুলোতে এখন শঙ্কাই নিত্যসঙ্গী। খামারিরা আশা করছেন, দ্রুত সরকারি নজরদারি ও সহায়তা না এলে তাঁদের স্বপ্ন ও জীবিকা দুটোই হারিয়ে যাবে।