তোফাজ্জল ইসলাম, জামালগঞ্জ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘ দমনে-নির্যাতনের ইতিহাসের প্রতীক হয়ে থাকা সেই দোকানঘর—যেখানে হামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক আর রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও টিকে ছিল বিএনপির তৃণমূল আন্দোলন—সেটি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৪ আগস্টের হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া স্মৃতিবাহী সেই অফিসের জায়গায় এবার নিজস্ব অর্থায়নে নতুন অফিস নির্মাণ করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ শাহজাহান।দলীয় নেতাকর্মীদের সংগ্রাম, চোখের জল আর ত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং নতুন পথচলার অঙ্গীকারে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে নবনির্মিত এই অফিসে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তার দায়িত্ব পালন করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৃণমূলের প্রিয়মুখ শাহ মোঃ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শামসুজ্জামান ধন মিয়া, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, সদস্য সচিব আসাদ নুর সাদি, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক রাইমুদ্দিন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বশির আহমেদ, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাহের আহমেদ, উপজেলা যুবদল নেতা লিংকন তালুকদার, জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব মাহবুব রহমান, ছাত্রদল কলেজ শাখার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য নাদিম মাহমুদ মুরাদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রবিন, ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমেদ ও কয়েস আহমেদ প্রমুখ।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান বলেন,আওয়ামী শাসনের প্রতিটি দিন ছিল আমাদের জন্য সংগ্রামের। হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, অফিস ভাঙচুর—সবকিছুর মাঝেও আমরা দমে যাইনি। এই নতুন অফিস আমাদের নতুন পথচলার প্রতীক। যদিও উপজেলায় আমাদের দলীয় কার্যালয় বিদ্যমান, তবুও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানেই সকল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলবে।প্রধান বক্তার বক্তব্যে শাহ মোঃ শাহজাহান বলেন— গত ১৭ বছরের নির্যাতন আমাদের ভেঙে দিতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে। নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে এই স্মৃতিবাহী স্থানে নতুন অফিস নির্মাণ করেছি। এটিকে আজ থেকে আমার ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ঘোষণা করছি।তিনি আরও বলেন—সামনের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নেব। আর বিশেষ বার্তা হলো—দলের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কখনোই অবজ্ঞা করা যাবে না। তারা দলের সম্পদ, তাদের সঙ্গে নিয়েই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শামসুজ্জামান ধন মিয়া বলেন— বিগত আওয়ামী শাসনে নিয়মিত দোকান পরিচালনা করতেই পারিনি। ভয়, আতঙ্ক, হামলা ছিল নিত্যসঙ্গী। আজ এই অফিস ব্যক্তিগত হলেও স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসবে। তবে দলীয় কার্যালয়ে বসেই আমাদের সংগঠনের সব কাজ করতে হবে, দলের স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে।উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন বলেন— কৃষকদল মাঠে আছে, থাকবে। এই অফিসকে কেন্দ্র করে আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামবো।সদস্য সচিব আসাদ নুর সাদি বলেন— যেখানে নির্যাতন, সেখানেই প্রতিরোধ—এটাই বিএনপির ইতিহাস। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বশির আহমেদ বলেন—বছরের পর বছর এলোমেলোভাবে বসতে হতো। আজ থেকে আমাদের একটি ঠিকানা হলো। এই ঘর কেবল অফিস নয়—এটি ১৭ বছরের নির্যাতন-সংগ্রামের স্মৃতিস্তম্ভ।আলোচনা সভা জুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ছিলেন উৎসবমুখর উপস্থিতি। কেউ বলছেন, এ যেন আরেক ধরনের মুক্তির প্রতীক —আবার কেউ বললেন, ত্যাগের স্মৃতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নতুন লক্ষ্যচিহ্ন।দীর্ঘ সহিংসতা, মামলা-হামলা ও নিপীড়নের ইতিহাস বুকে নিয়ে জামালগঞ্জ বিএনপির এই নতুন অফিস এখন হয়ে উঠেছে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম ও ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়ের নতুন ঠিকানা।
প্রকাশিত : শুক্রবার , ১৪ নভেম্বর ২০২৫ , রাত ০৮:২৫।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার , ১৪ মার্চ ২০২৬ , দুপুর ০১:৪৩
জামালগঞ্জে বিএনপি নেতার উদ্যোগে নতুন অফিস উদ্বোধন
তোফাজ্জল ইসলাম, জামালগঞ্জ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিএনপির দীর্ঘ দমনে-নির্যাতনের ইতিহাসের প্রতীক হয়ে থাকা সেই দোকানঘর—যেখানে হামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক আর রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও টিকে ছিল বিএনপির তৃণমূল আন্দোলন—সেটি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৪ আগস্টের হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া স্মৃতিবাহী সেই অফিসের জায়গায় এবার নিজস্ব অর্থায়নে নতুন অফিস নির্মাণ করেছেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোঃ শাহজাহান।দলীয় নেতাকর্মীদের সংগ্রাম, চোখের জল আর ত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে এবং নতুন পথচলার অঙ্গীকারে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে নবনির্মিত এই অফিসে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান। প্রধান বক্তার দায়িত্ব পালন করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তৃণমূলের প্রিয়মুখ শাহ মোঃ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শামসুজ্জামান ধন মিয়া, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, সদস্য সচিব আসাদ নুর সাদি, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, সাধারণ সম্পাদক রাইমুদ্দিন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বশির আহমেদ, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাহের আহমেদ, উপজেলা যুবদল নেতা লিংকন তালুকদার, জিয়া মঞ্চের সদস্য সচিব মাহবুব রহমান, ছাত্রদল কলেজ শাখার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য নাদিম মাহমুদ মুরাদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রবিন, ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমেদ ও কয়েস আহমেদ প্রমুখ।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান বলেন,আওয়ামী শাসনের প্রতিটি দিন ছিল আমাদের জন্য সংগ্রামের। হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, অফিস ভাঙচুর—সবকিছুর মাঝেও আমরা দমে যাইনি। এই নতুন অফিস আমাদের নতুন পথচলার প্রতীক। যদিও উপজেলায় আমাদের দলীয় কার্যালয় বিদ্যমান, তবুও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানেই সকল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলবে।প্রধান বক্তার বক্তব্যে শাহ মোঃ শাহজাহান বলেন— গত ১৭ বছরের নির্যাতন আমাদের ভেঙে দিতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে। নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে এই স্মৃতিবাহী স্থানে নতুন অফিস নির্মাণ করেছি। এটিকে আজ থেকে আমার ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ঘোষণা করছি।তিনি আরও বলেন—সামনের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নেব। আর বিশেষ বার্তা হলো—দলের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের কখনোই অবজ্ঞা করা যাবে না। তারা দলের সম্পদ, তাদের সঙ্গে নিয়েই ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য শামসুজ্জামান ধন মিয়া বলেন— বিগত আওয়ামী শাসনে নিয়মিত দোকান পরিচালনা করতেই পারিনি। ভয়, আতঙ্ক, হামলা ছিল নিত্যসঙ্গী। আজ এই অফিস ব্যক্তিগত হলেও স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসবে। তবে দলীয় কার্যালয়ে বসেই আমাদের সংগঠনের সব কাজ করতে হবে, দলের স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে।উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন বলেন— কৃষকদল মাঠে আছে, থাকবে। এই অফিসকে কেন্দ্র করে আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামবো।সদস্য সচিব আসাদ নুর সাদি বলেন— যেখানে নির্যাতন, সেখানেই প্রতিরোধ—এটাই বিএনপির ইতিহাস। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বশির আহমেদ বলেন—বছরের পর বছর এলোমেলোভাবে বসতে হতো। আজ থেকে আমাদের একটি ঠিকানা হলো। এই ঘর কেবল অফিস নয়—এটি ১৭ বছরের নির্যাতন-সংগ্রামের স্মৃতিস্তম্ভ।আলোচনা সভা জুড়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ছিলেন উৎসবমুখর উপস্থিতি। কেউ বলছেন, এ যেন আরেক ধরনের মুক্তির প্রতীক —আবার কেউ বললেন, ত্যাগের স্মৃতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নতুন লক্ষ্যচিহ্ন।দীর্ঘ সহিংসতা, মামলা-হামলা ও নিপীড়নের ইতিহাস বুকে নিয়ে জামালগঞ্জ বিএনপির এই নতুন অফিস এখন হয়ে উঠেছে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, সংগ্রাম ও ঐক্যবদ্ধ প্রত্যয়ের নতুন ঠিকানা।