মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ রিয়াদ হোসেনঃঈদের আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ঈদের আগের শেষ কর্ম দিবস শেষে দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল-সহ বিভিন্ন যানবাহনে করে গ্রামের পথে যেতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।তবে সম্প্রতি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি-ছিনতাই আর অহরহ সড়ক দুর্ঘটনায় এবার ঈদ যাত্রা ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা।স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকে মাওয়া পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে গত তিন মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক যানবাহন থামিয়ে ঘটেছে প্রায় ৫টি বড় ডাকাতির ঘটনা। এছাড়া যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন খোদ পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।এছাড়া দ্রুতগতির এ মহাসড়কে সড়কের নিয়ম না মানায় দিন অথবা রাতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি গুরুতর আহতও হচ্ছেন অনেক যাত্রী।সরকারি সড়ক পরিবহন সংস্থা ও হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ১৪ শ’ সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের। এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী, যানবাহন চালক ও পথচারী। ফলে এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বাড়তি নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।সরজমিনে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে ও ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার কাছেই সেতুর উত্তর থানা গোল চত্বর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি গণপরিবহনের সংকটে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যাত্রীবাহী পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।এদিন বিকেলে এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাই ডাকাতির মতো ঘটনা মনিটরিংয়ে রাখতে এক্সপ্রেসওয়েতে ও সেতুর মাওয়া প্রান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।তিনি বলেন, এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া একপ্রেসওয়েতে।এদিকে প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের প্রায় ৩২টি জেলার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যায় ঘরমুখো মানুষ। তবে মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় একসঙ্গে অনেক যানবাহন পৌঁছালে সাময়িক যানজটের তৈরি হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত পরিচালক শেখ ইসতেয়াক আহমেদ বলেন, ১৭ মার্চ ঈদের ছুটির দিন থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা বুথ রাখা হবে। পাশাপাশি টোল প্লাজায় ১৪ জন অতিরিক্ত টোল কালেক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ না থাকে।হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। তবে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সেতুর সবগুলো লেন খুলে দেয়া হবে, যাতে যান চলাচল ও পারাপার দ্রুত করা যায়।তিনি আরও জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসনাবাদ, আব্দুল্লাপুর, বাবুবাজার ও শ্রীনগর ছনবাড়ী-সহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিন-রাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা না ঘটে।তিনি আরও বলেন, এ রুটে ৩০ জন স্থানীয় পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বাইরের আরও ১৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ আব্দুল্লাপুর সার্ভিস লেনে কাজ করবে। প্রথম দিন অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলে টোল প্লাজায় সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।তবে এবার এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই বলেও দাবি করেছে হাইওয়ে পুলিশ।অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া সীমানা হয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৫ জেলার ঘরমুখো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতিবছরই এই মহাসড়কে ঈদ ঘরমুখো মানুষ যানজটের কবলে পড়েন। এবারও সেই আশঙ্কা থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৩০ সদস্য, জেলা পুলিশের ৫০ সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, মূলত ইউটার্ন থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে থ্রি-হুইলারগুলো অনেক সময় উল্টো পথে চলাচল করে থাকে। তবে এখন থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়েছে এবং ঈদের আগেই তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এ মহাসড়কে কোনো হাট-বাজার না থাকায় বড় ধরনের যানজটের সম্ভাবনা কম। কোনো গাড়ি হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে সেটি অপসারণ করতে যতটুকু সময় লাগে, ওই সময়টুকু ছাড়া অন্য কোনো কারণে যানজটের আশঙ্কা নেই।যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৩০ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ৫০ জন সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সড়কের পাশে থাকা পেট্রোল পাম্প ও রেস্টুরেন্টগুলোর কর্মীরাও সহযোগিতা করবেন।তিনি আরও জানান, এই মহাসড়কে ১৪টি হোটেল ও ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে ২ জন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের জ্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়েছে। কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে তারা দ্রুত পুলিশকে জানাবেন। কোনো গাড়ি ধীরগতিতে চললে তার কারণ জানতে মোটরসাইকেল টহল থাকবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রকাশিত : বুধবার , ১৮ মার্চ ২০২৬ , রাত ০৯:১৫।।
প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার , ২৪ মার্চ ২০২৬ , বিকাল ০৫:১৯
নিরাপত্তা শঙ্কায় মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ রিয়াদ হোসেনঃঈদের আনুষ্ঠানিক ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে। সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ঈদের আগের শেষ কর্ম দিবস শেষে দুই চাকার বাহন মোটরসাইকেল-সহ বিভিন্ন যানবাহনে করে গ্রামের পথে যেতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।তবে সম্প্রতি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়কে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি-ছিনতাই আর অহরহ সড়ক দুর্ঘটনায় এবার ঈদ যাত্রা ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা।স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকে মাওয়া পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে গত তিন মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক যানবাহন থামিয়ে ঘটেছে প্রায় ৫টি বড় ডাকাতির ঘটনা। এছাড়া যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন খোদ পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।এছাড়া দ্রুতগতির এ মহাসড়কে সড়কের নিয়ম না মানায় দিন অথবা রাতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি গুরুতর আহতও হচ্ছেন অনেক যাত্রী।সরকারি সড়ক পরিবহন সংস্থা ও হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ১৪ শ’ সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের। এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী, যানবাহন চালক ও পথচারী। ফলে এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বাড়তি নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।সরজমিনে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে ও ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার কাছেই সেতুর উত্তর থানা গোল চত্বর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি গণপরিবহনের সংকটে গন্তব্যে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন যাত্রীবাহী পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ যাত্রীদের।এদিন বিকেলে এক্সপ্রেসওয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে পুলিশ সুপার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাই ডাকাতির মতো ঘটনা মনিটরিংয়ে রাখতে এক্সপ্রেসওয়েতে ও সেতুর মাওয়া প্রান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।তিনি বলেন, এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া একপ্রেসওয়েতে।এদিকে প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের প্রায় ৩২টি জেলার মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু পারাপার হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে যায় ঘরমুখো মানুষ। তবে মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় একসঙ্গে অনেক যানবাহন পৌঁছালে সাময়িক যানজটের তৈরি হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।পদ্মা সেতুর অতিরিক্ত পরিচালক শেখ ইসতেয়াক আহমেদ বলেন, ১৭ মার্চ ঈদের ছুটির দিন থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা বুথ রাখা হবে। পাশাপাশি টোল প্লাজায় ১৪ জন অতিরিক্ত টোল কালেক্টর নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেও টোল আদায় কার্যক্রম বন্ধ না থাকে।হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। তবে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে সেতুর সবগুলো লেন খুলে দেয়া হবে, যাতে যান চলাচল ও পারাপার দ্রুত করা যায়।তিনি আরও জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসনাবাদ, আব্দুল্লাপুর, বাবুবাজার ও শ্রীনগর ছনবাড়ী-সহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিন-রাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো কোনো ঘটনা না ঘটে।তিনি আরও বলেন, এ রুটে ৩০ জন স্থানীয় পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বাইরের আরও ১৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ আব্দুল্লাপুর সার্ভিস লেনে কাজ করবে। প্রথম দিন অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলে টোল প্লাজায় সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।তবে এবার এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই বলেও দাবি করেছে হাইওয়ে পুলিশ।অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া সীমানা হয়ে পূর্বাঞ্চলের ১৫ জেলার ঘরমুখো মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু প্রতিবছরই এই মহাসড়কে ঈদ ঘরমুখো মানুষ যানজটের কবলে পড়েন। এবারও সেই আশঙ্কা থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৩০ সদস্য, জেলা পুলিশের ৫০ সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দ বলেন, মূলত ইউটার্ন থেকে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণেই যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে থ্রি-হুইলারগুলো অনেক সময় উল্টো পথে চলাচল করে থাকে। তবে এখন থেকেই এসব নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু হয়েছে এবং ঈদের আগেই তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এ মহাসড়কে কোনো হাট-বাজার না থাকায় বড় ধরনের যানজটের সম্ভাবনা কম। কোনো গাড়ি হঠাৎ বিকল হয়ে গেলে সেটি অপসারণ করতে যতটুকু সময় লাগে, ওই সময়টুকু ছাড়া অন্য কোনো কারণে যানজটের আশঙ্কা নেই।যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশের ৩০ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ৫০ জন সদস্য এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সড়কের পাশে থাকা পেট্রোল পাম্প ও রেস্টুরেন্টগুলোর কর্মীরাও সহযোগিতা করবেন।তিনি আরও জানান, এই মহাসড়কে ১৪টি হোটেল ও ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে ২ জন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের জ্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়েছে। কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে তারা দ্রুত পুলিশকে জানাবেন। কোনো গাড়ি ধীরগতিতে চললে তার কারণ জানতে মোটরসাইকেল টহল থাকবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।