• ঢাকা
  • রবিবার , ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৬:৫১
  • ১২ মাঘ, ১৪৩২
ব্রেকিং নিউজ
হোম / সারাদেশ

মধ্যনগর উপজেলায় সেরা গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন অজয় রায়

রিপোর্টার : দৈনিক আলোর সকাল
মধ্যনগর উপজেলায় সেরা গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন অজয় রায় ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

ধর্মপাশা ও মধ্যনগর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলায় সেরা গুণী শিক্ষক -২০২৫ নির্বাচিত হয়েছেন ফারুকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবি ও লেখক অজয় কুমার রায়। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং ৩৮.০১.০০০০.১৪৫.৯৯.০৩০.২০২৫-২৪৪৪ তারিখ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. পত্রের আলোকে জাতি গঠনে শিক্ষকের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে সকল শিক্ষককে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সারা বিশ্বের সাথে সংগতি রেখে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়। এ লক্ষ্যে বিশ্বশিক্ষক দিবস উদযাপন নীতিমালা-২০২৪ এর আলোকে উপজেলা,জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে গুণী শিক্ষক বাছাইয়ে ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ১জন সহকারী শিক্ষক "গুণী শিক্ষক" হিসেবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ বুধবার সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচিত বোর্ড অংশ গ্রহণকারী প্রতিযোগী শিক্ষকগণদের পেশাদারিত্ব, সৃজনশীলতা, ব্যক্তিগত গুণাবলী ও অর্জনসহ বিভিন্ন দিক মূল্যায়নে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এর নির্ধারিত ছকে যাচাই-বাছাই ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সাক্ষাৎকার গ্রহণপূর্বক শিক্ষক অজয় কুমার রায়-কে গুণী শিক্ষক -২০২৫ নির্বাচিত করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। অজয় কুমার রায় পেশায় একজন গুণী শিক্ষক হলেও তাঁর রয়েছে বহুমাত্রিক প্রতিভা ও সৃজনশীল কর্মকান্ড। তিনি তাঁর কর্মকালে মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার পাশাপাশি ৫ম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে অনিয়মিত ও পিছিয়েপড়া শিশুদের পড়ালেখার গুরুত্ব তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তিনি শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করায় ২০০১ সালে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম হতে "থ্যাকস লেটার" বা ধন্যবাদপত্র প্রাপ্ত হন।এনবিসিটির "কৈশোর বাংলাদেশ" পত্রিকার সম্পাদনা সহযোগী হিসেবেও তিনবছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ের গবেষণামূলক কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ,প্রাথমিক শিক্ষা পদক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা,জাতীয় দিবসসমূহে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার অন্বেষণে ক্রীড়া, কাবিং,কবিতা আবৃত্তি,কুইজ, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণ করানোসহ নানা ভূমিকা পালন করে আসছেন।তিনি উপজেলা পর্যায় (সমন্বিত ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা) শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মনোনীত হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা পদক -২০২৩ অর্জন করেন এবং উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তাঁকে "সম্মাননা স্মারক" তুলে দেন।

তিনি পেশাদারিত্বে পিটিআই এর সিইনএড পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ১ম শ্রেণি অর্জন করেন।বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনসহ দেয়ালিকা প্রকাশ ও পিটিআই এর বাৎসরিক ম্যাগাজিন প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিটিআই ও ইউআরসি কর্তৃক আয়োজিত প্রাথমিকের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসমূহ তিনি দক্ষতা ও সাফল্যের সাথে সমাপ্ত করেন।তিনি তাঁর শিক্ষাগত পেশার কর্মকাল ২১ বৎসর অতিক্রম করেছন। 

শিক্ষা,ক্রীড়া,শরীরচর্চা,সংগীত,কবিতা আবৃত্তি কাবিং, কার্যক্রমে অবদান রাখার পাশাপাশি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলেও তাঁর অবদান রয়েছে। 

এছাড়াও সরকারি উদ্যোগে উপজেলা,জেলা ও বিভাগ পর্যায় সাহিত্য মেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে অংশগ্রহণ করে স্ব-রচিত কবিতা আবৃত্তি করে সকলের নজরে এসেছেন।তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

সাহিত্য পরিমন্ডলে সুনামগঞ্জ সাহিত্য পুরস্কার, পার্বত্য কাব্য গুণীজন সম্মাননাসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও স্মারক ইতিমধ্যেই ঘরে তুলেছেন।

উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এজন্যে উপজেলা প্রশাসন তাঁকে "শুভেচ্ছা স্মারক" তুলে দেন। সম্প্রতি অমর একুশে বইমেলায় শিশু-কিশোরদের জন্য তাঁর রচিত 'ফুল ফাগুনের মেলা' ও 'ডাহুক পাখি ডাকে' বইদুটি বেশ সাড়া যুগিয়েছে। এছাড়াও তাঁর রয়েছে হাওর নদী ফুল ফল পাখি প্রকৃতি দেশপ্রেম ইতিহাস ঐতিহ্য ভাষা সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন কবিতা ও গল্পের বই হাওরকন্যা,পাহাড়ি ঢল, ফিরে এলো না, ভাষার মাসে ফাগুন আসে, এবং আমিও অন্যগ্রহের কেউ নই।তিনি মধ্যনগরে তাঁর কাব্যকাননে বিভিন্ন বিষয়ের তিন সহস্রাধিক বইয়ের বিপুল সমাহার গড়ে তুলেছেন। তাঁর স্ত্রী সাকী তালুকদার পেশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন গুণী প্রধান শিক্ষিকা। উপজেলা পর্যায়ে তিনবার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যৌথভাবে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছেন।তাঁর দুইপুত্র অরুণাভ রায় ও অনুরাগ রায় কবিতা আবৃত্তি অভিনয় চিত্রাঙ্কন ও সংগীতে সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে উপজেলা জেলা ও বিভাগ পর্যায় পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করেছে। তিনি পেশায় শিক্ষক হলেও একাধারে কবি লেখক আবৃত্তিকার ও সঞ্চালক হিসেবেও বেশ পরিচিত। তিনি বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের দায়িত্ব পালনসহ বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি মধ্যনগর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উজ্জ্বল রায় বলেন, এখানে বিভিন্ন কেটাগরিতে যাচাই-বাছাই করে সারা উপজেলা থেকে তিনজনকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভাইভা বোর্ডে উপস্থাপন করেন। পরে তিনজনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে অজয় রায়কে সেরা গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো করেন আমি তার উত্তর উত্তর মঙ্গল কামনা করি। 

## এম এম এ রেজা পহেল 


ধর্মপাশা

আরও পড়ুন