ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টানা চতুর্থবার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা—দেশপ্রেমের টানে কানাডা ছেড়ে ফিরে এসে গবেষণায় যোগ করেছেন নতুন দিগন্ত
“আমার দেশ আমাকে সুশিক্ষিত হবার ও ভালো গবেষণা করবার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এ দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই আমি দেশে ফিরে এসেছি”—বলছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রফেসর ড. মোঃ সফিউর রহমান।
টানা চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ের কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় নাম উঠেছে এই মেধাবী বিজ্ঞানীর। স্কোপাস ইনডেক্সভিত্তিক প্রকাশনায় ২২টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও ১৭৬টি উপক্ষেত্রে বিভাজন করে প্রণীত এ তালিকায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি হয়েছেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
শৈশব থেকে গবেষণার অঙ্গনে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের Applied Chemistry and Chemical Engineering বিভাগ থেকেই তাঁর গবেষণার যাত্রা শুরু। বি.এসসি (অনার্স) পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য অর্জন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদক। এরপর স্নাতকোত্তর এবং ২০০৪ সালে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার বিষয়ে এম.ফিল সম্পন্ন করেন।
২০০৫ সালে তিনি কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয়ে এনএসইআরসি (NSERC) স্কলারশিপে পিএইচডি করতে যান। সেখানে একাধিক গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত থেকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। দীর্ঘ ১১ বছর গবেষণা ও শিক্ষকতা করলেও শেষ পর্যন্ত মাতৃভূমির টানেই ২০১৪ সালে দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফিরে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ড. সফিউর রহমান আবার যোগ দেন পরমাণু শক্তি কমিশনে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা শুরু করেন। ইতোমধ্যে তাঁর তত্ত্বাবধানে ৫ জন পিএইচডি ও ৬৫ জন পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী গবেষণা সম্পন্ন করে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
তাঁর বিশ্বাস—“বিজ্ঞান কেবল ক্যারিয়ার নয়, এটি মানবতার সেবা। তরুণরা যদি মন থেকে দেশকে ভালোবাসে, তবে গবেষণার মাধ্যমেই সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারবে।”
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
ড. সফিউর রহমানের গবেষণা জীবনের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
২০০০ – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পরীক্ষায় স্বর্ণপদক
২০২১ – ভারতের International Scientist Award (ISAT 2021)
২০২২ – বাংলাদেশ সরকারের শ্রেষ্ঠ গবেষক পুরস্কার
২০২৩ – ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক, বেস্ট সায়েন্টিস্ট স্বীকৃতি
২০২৪ – ভিয়েনায় FAO-IAEA আয়োজিত আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে “MERIT AWARD”
২০২৫ – স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি
বিদেশের চাকরি ছেড়ে দেশে ফেরা এই বিজ্ঞানী শুধু নিজের কর্মোগ্রহেই উজ্জ্বল নন, তরুণ গবেষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার আলো। তাঁর ভাষায়—“আজ যদি আমার অর্জন দেশের নাম উজ্জ্বল করে, তবে এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”