ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃমোঃসোহাগ
তরমুজ চাষের জন্য ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সুদে নিয়ে এক বছরে ৪ লক্ষ টাকা পরিষোধ করেও স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে আদালত প্রাঙ্গনে।
সুদের টাকার চাপ সইতে না পেরে, বাঁচার তাগিদে রাতের আধারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে (রাজধানী শহর) ঢাকায় পারিজমায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রান্তিক কৃষক আঃ রাজ্জাক। তবুও ঝামেলা থেকে রক্ষা পেলেন না তিনি।
ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যমতে বিগত ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে কৃষক রাজ্জাক তরমুজ চাষের জন্য একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ কামাল শরীফ এর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তরমুজ চাষ করেন তিনি। তরমুজের ফলন ভালো না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। কৃষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফসলি জমি বিক্রি করে ৪লক্ষ টাকা কামালকে দেয় এবং এর বেশি দিতে না পারার কথা বলে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি চেয়েছন তিনি। তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে আরো ১লক্ষ টাকা দাবি করে কামাল, যা দিতে না পাড়ায় ব্যাংকের চেক ও ষ্টাম্প আটকিয়ে রাখে কামাল, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে আদালতে আসহায় রাজ্জাক কে আসামী করে মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগী রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল তরমুজ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত লসে পড়ে তিনি । অন্যদিকে সুদের টাকার দায় এরাতে কৃষক রাজ্জাকের চাষের জমি বিক্রি করে সুদ-আসলে কামাল শরীফ - কে (আসল ১লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সহ) মোট চার লক্ষ টাকা দিয়ে ক্ষমা চেয়েও রক্ষা হলো না তার।
কামাল শরীফ এলাকার প্রভাবশালি প্রকৃতির হওয়ায় ভয়ে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে রাজধানী শহর ঢাকায় গিয়ে জীবনের তাগিদে ফুটপাতে হকারি শুরু করলেন অসহায় রাজ্জাক।
এ সময় তিনি আরো বলেন ফুটপাতে হকারী করে কোনো রকম দিন চলছিল তার।
এরই মাঝে কামাল শরীফ পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলি আদালতে এন এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় সি. আর নং ৯৯৯/২০২৫ একটি মনগড়া ২৫,৫০,০০০/= (পঁচিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকা উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছ তিনি।
এসময় চক্রবতি সুদের দায় থেকে মুক্তি পেতে মনগড়া হিসাব মিলিয়ে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি থেকে বাঁচতে আইনের সহযোগিতা চান তিনি। ছেলে সন্তান নিয়ে পেটের দায়ে ঢাকা গিয়ে ফুটপাতে হকারি করে খেয়ে না খেয়ে কোন-রকম দিন পার করছেন বলে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
চাষের জমি বিক্রি করে এই চার লক্ষ টাকা জোগাড় করে, এখন থাকার জণ্য ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছু নাই। তাই সকলের কাছে মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষার আকুল আবেদন করেন। তিনি আরো জানান কামাল শরীফ তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছেন । তাই তিনি বাঁচা মরার মাঝখানে কোনরকম বেঁচে আছেন বলে প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। অতিরিক্ত সুদ দেয়া এবং আদালতের মামলা চালানো তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই তিনি প্রশাসকের কাছে সঠিক বিচার সহ মুক্তি কামনা করেন।