ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
তোফাজ্জল ইসলাম- জামালগঞ্জ থেকে:
মাটির শক্তি মাটিতেই রাখি, রসায়নে নয়, প্রকৃতিতে থাকি-এমন স্লোগানে মুখর ছিল সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা।
কারিতাস বাংলাদেশ, সিলেট অঞ্চলের ইএলএসআরপি প্রকল্পের উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব সচেতনতামূলক আয়োজন— জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জারি গান ও নাটিকা প্রদর্শনী।
প্রকৃতিনির্ভর কৃষির নতুন এই ধারায় অংশ নেয় সাচনা ইউনিয়নের জামলাবাজ ও ভরতপুর, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাচনা হাটি, এবং ভীমখালি ইউনিয়নের ছেলাইয়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সমাজ।
অনুষ্ঠানগুলোতে মাঠ সহায়ক কল্যাণ ব্রত তালুকদারের উপস্থাপনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. স্বপন নায়েক। তিনি জৈব সারের উৎপাদন, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং জৈব বালাইনাশকের নিরাপদ প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করেন।
কারিতাস বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে হাওড় অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি বিস্তারের লক্ষ্যে জামালগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি ছিল কৃষকদের সাথে সরাসরি সংলাপের এক প্রাণবন্ত প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে মেলোডি মাফিয়া শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন সচেতনতা মূলক জারি গান ও নাটিকা।
গানের ছন্দে ছন্দে তারা তুলে ধরেন— রাসায়নিক কীটনাশকের ক্ষতিকর দিক, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব, এবং জৈব সার ব্যবহারের ইতিবাচক ফলাফল।
নাটিকায় দেখা যায় এক কৃষক পরিবারের বাস্তব জীবনচিত্র— অতিরিক্ত কীটনাশকের কারণে জমির উর্বরতা হারিয়ে যায়, কিন্তু পরে জৈবসার ব্যবহার করে তারা আবারও ফসলের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনে।
স্থানীয় কৃষক ও গৃহিণীরা গান-নাটকের প্রতিটি অংশ গভীর মনোযোগে উপভোগ করেন।
উপস্থিত জনতা বলেন, এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, আমাদের শেখায় প্রকৃতিকে ভালোবাসতে।
তাদের মতে, জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে জমি যেমন বাঁচে, তেমনি পরিবারের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকে।
কারিতাসের পক্ষে মাঠ সহায়ক অশ্বিনী কুমার রায়, উপেন্দ্রনাথ রায়, সম্রাজ মিয়া, রাকিব হাসান, আমির হোসেন, জামিল হোসেন ও পলাশ দাসসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
জারি গানের তালে তালে কৃষকদের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো এক নতুন প্রত্যয়—
আমরা চাই সবুজ মাটি, জৈবচাষে নবজাগরণ।
জামালগঞ্জের কৃষি মাঠে এখন সেই জাগরণের স্পন্দনই স্পষ্ট।