ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর হাজারীবাগের হাজী ফালুমিয়া রোডে সরকারি মেরামতকাজের ধীরগতির কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে; এমনকি এলাকার একটি মসজিদের নির্মাণকাজও শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেয় এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেয়। প্রায় ১১ মাস আগে কাজ শুরু হলেও তা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ করায় রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একাধিকবার অভিযোগ করার পরও ডিএসসিসি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাস্তাটির একাংশে ঢালাই করা হলেও শেষাংশের কাজ এখনো ঝুলে আছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রাস্তাটির শেষ প্রান্ত হাজী সালাম সর্দার রোডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় বিকল্প কোনো পথ নেই। ফলে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি সাময়িকভাবে চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয় একটি মসজিদের দেয়াল ভেঙে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মূল রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় মসজিদের নির্মাণকাজও শুরু করা যাচ্ছে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক রুহুল আমিনের কাছে কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা জানতে চাইলে তিনি আশানুরূপ কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করার কথা থাকলেও রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় তা স্থগিত রয়েছে। ফলে মুসল্লিদের দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ না হলে মসজিদের নির্মাণে আরও জটিলতা দেখা দিতে পারে। তারা বলেন, সামনে মাহে রমজান আসছে—তাই মসজিদটি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নামাজ উপযোগী করার জন্য রাস্তাকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি রোধ করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাস্তার বাকি কাজ সম্পন্ন করে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব করেন।